বায়োলোজি সহজে শিখি, মনে রাখি [পর্ব-০২] :: নিজেরাই হই নিজেদের বায়োলজি টিউটর – (HSC ও অ্যাডভান্স SSC ছাত্ররা দেখতে ভুলবেন না ! আসুন আজকে শিখি জেনেটিক্স এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় -“সেক্স লিঙ্কড ইনহেরিটেন্স”। সঙ্গে সম্পূর্ণ বিষয়টির নোটস একটি পিডিএফ ফাইল ও একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেসেন্টেশন।

এটি 7 পর্বের বায়োলজি সহজে শিখি, মনে রাখি চেইন টিউনের 2 তম পর্ব

নিজেরাই হই নিজেদের বায়োলজি টিউটর - (HSC  ও অ্যাডভান্স  SSC  ছাত্ররা দেখতে ভুলবেন না ! (পর্ব-২) আসুন আজকে শিখি জেনেটিক্স এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় -"সেক্স লিঙ্কড ইনহেরিটেন্স"।সঙ্গে সম্পূর্ণ বিষয়টির নোটস একটি  পিডি এফ ফাইল  ও একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেসেন্টেশন।অন্য যাদের বিষয়টির প্রতি কৌতুহল আছে তারাও দেখতে পারেন ।তবে আমার টার্গটেড ভিঊয়ার অবশ্যই সেকেন্ডারী ও হায়ার সেকেনন্ডারি  লেভেলের ছাত্ররা ।

নিজেরাই হই নিজেদের বায়োলজি টিউটর - (HSC  ও অ্যাডভান্স  SSC  ছাত্ররা দেখতে ভুলবেন না ! (পর্ব-২) আসুন আজকে শিখি জেনেটক্স এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় -"সেক্স লিঙ্কড ইনহেরিটেন্স"।সঙ্গে সম্পূর্ণ বিষয়টির নোটস একটি  পিডি এফ ফাইল  ও একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেসেন্টেশন।

আজকের আলোচ্য  বিষয়   সেক্স  লিঙ্কড্‌  ইনহেরিটেন্স  বা  লিঙ্গ সংযোজিত  বৈশিষ্ট্য ,  এটা বুঝতে গেলে আগে আমাদের কিছু প্রাথমিক ধারনা স্পষ্ট করে নিতে হবে তারপর  মূল বিষয়ে প্রবেশ করা ঠিক হবে । এসো আমরা সহজ ভাবে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করি-এগুলিকে সহজ ভাবে বোঝার জন্য  কতগুলি প্রয়োজনীয় পাঠ  যা আমরা আগেই পড়ে ফেলেছি সেগুলোর সমন্ধে একটু স্পষ্ট ধারনা  দরকার ।সেগুলিকে একটু সংক্ষেপে আলোচনা করে তারপর আবার আমরা এগোব-

প্রথমেই একটি কন্সেপ্ট ক্লিয়ার করে নিই-  একটি ধারনা পরিষ্কার করি –

প্রথম চিত্রে এটি কয়টি ক্রোমোজোম ? ১ টি না ২ টি ?

উত্তর – একটি ক্রোমোজোম যাতে দুইটি  ক্রোমাটিড আছে ।

এবার বল ,২য় চিত্রে   এটি কয়টি ক্রোমোজোম ?

উত্তর – এটি  ও  একটি ক্রোমোজোম যাতে একটি   ক্রোমাটিড আছে ।কোষবিভাজনের   ইন্টার ফেজ দসায় এরা DNA এর দ্বিত্ত্বকরণের বা duplication  এর ফলে আর একটি ক্রোমাটিড বানিয়ে ফেলে ।ফলে একটি ক্রমোজোম এক ক্রোমাটিড  থেকে আবার পরে একটি ক্রোমোজোম ২ ক্রোমাটিড অবস্থায় পরিনত হবে  ।

তোমরা জান মানুষের দেহের প্রতিটি  কোশে ৪৬  টি করে ক্রোমোজোম থাকে- এটি  তথ্য হিসেবে একদম  সঠিক কিন্ত বোঝার জন্য ঠিক  নয় ।  তুমি বলবে কেন নয় ? – আমি বলি ৪৬ টি নয় ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে । অবাক হলে তো !তফাৎ কোথায় ৪৬ টি আর ২৩ জোড়া র মধ্যে ?হ্যা সামান্য তফাৎ অবশ্যই রয়েছে । এটা বুঝতে পারলেই হোমোলোগাস বা সমসংস্থ ক্রোমোজোম সমন্ধে ধারনা পরিষকার হবে । আসলে মানুষের প্রতিটি কোশে থাকে ২৩ জোড়া  করে ক্রোমোজোম ।এই এক এক জোড়া ক্রোমোজোমএর প্রতিটি আকৃতি গত ভাবে একই রকম ।এবং তাদের লোকাসে (ক্রোমোজোমের যে নির্দিষ্ট থানে  জিন গুলি অবস্থান করে  তাকে লোকাস বলে ) একই বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রন কারী জিন থাকে ।

এবার দেখি সমসংস্থ ক্রোমোজোম কাকে বলে ?

যে কোনো ডিপ্লয়েড (2n)কোষে  যেকোনো একটি ক্রোমোজোম ঐকোষের কোনো না কোনো একটি  ক্রোমোজোমের সঙ্গে আকৃতি গত ভাবে (অর্থাৎ সেত্রোমিয়ার এর অবস্থান , বাহুর দৈর্ঘ্য ইত্যাদি ))একই এবং এই ক্রোমোজোম  জোড়ার প্রতিটিতে জিনের একই সজ্জা ক্রম থাকে , এদেরপরস্পরকে একে অপরে সমসঙ্গস্থ ক্রোমোজোম  বা হোমোলোগাস ক্রোমোজোম বলে । এই গোরার একটি ক্রোমোজোম  আসে পিতার দেহ বা শুক্রানুর মাধ্যমে এবং একটি আসে মাতৃ দেহ বা দিম্বানুর মাধমে । মনে রাখতে হবে এই সমসংস্থ ক্রোমোজোম দ্বয় মিয়োসিস বিভাজনের সময় জোড় বাধে ।এবং মিয়োসিস বিভাজনের ফলে যখন গ্যামেট তৈরী হয় তখন এরা পৃথক হয়ে যায়। আবার যখন নিষেক (দুইটি গ্যামেটের মিলন ) হয় তখন এরা ডিপ্লয়েড কোষ গঠন করে ও জোড়া য় জোড়ায় অবস্থান করে ।

এবার বুঝে নেব অটোজোম আর সেক্স ক্রোমোজোম-

মানব্ দেহে সে পুরুষ বা নারী যাই হোক না কেন –এদের ডিপ্লয়েড কোষে  যে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে এদের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজম জীবদেহের কোন না কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রন করে এদের বলা হয়- দেহস্থ ক্রোমোজোম বা অটোজোম । আর বাকি যে এক জোড়া ক্রোমোজোম থাকে যার দ্বারা জীবের লিঙ্গ নির্ধারিত হয় সেটিকে বলে সেক্স ক্রোমোজোম বা যৌন ক্রোমোজোম।

এই একজোড়া সেক্স ক্রোমোজোম কিন্তু আবার পুরুষ বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা হয়।

পুরুষদের ক্ষেত্রে 22 জোড়া অটোজোম + একজোড়া সেক্স ক্রোমোজোম ( XY).

স্ত্রী দের ক্ষেত্রে 22 জোড়া অটোজোম + একজোড়া সেক্স ক্রোমোজোম ( XX)

যৌন বা লিঙ্গ ক্রোমোজোমে (পুরুষ দের ক্ষেত্রে XY    এবং স্ত্রীদের ক্ষেত্রে XX  ) উপস্থিত দৈহিক বৈশিষ্ট্য  নিয়ন্ত্রণ কারী যেসব জিন বা অ্যালীল সমুহ যৌন ক্রোমোজোমের স্বাধীন সঞ্চারণ অনুযায়ী গ্যামেট এর মাধ্যমে এক জনু থেকে পরবর্তী জনুতে সঞ্চারিত হয় তাদের যৌন বা লিঙ্গ সংযোজিত জিন বলে ।

Xক্রোমোজোমে অবস্থিত জিন গুলিকে বলে  X সংযোজিত জিন বা   X linked gene

Y ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিন গুলিকে বলে  Y সংযোজিত জিন বা   Y linked gene বা হলান্ড্রিক জিনও বলে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে XY ক্রোমোজোম সেক্স ক্রোমোজোম হিসেবে উপস্থিত থাকে বলে এক্ষেত্রে লিঙ্গ সংযোজিত জিনের একটি মাত্র অ্যালীল উপস্থিত থাকে সেকারনে লিঙ্গসংযোজিত জিনের পরিপ্রেক্ষিতে পুরুষরা হেমিজাইগাস (hemizygous)  অন্য দিকে স্ত্রীদের ক্ষত্রে XX ক্রোমোজোম সেক্স ক্রোমোজোম হিসেবে উপস্থিত থাকে বলে এক্ষেত্রে লিঙ্গ সংযোজিত জিনের দুইটি বা একজোড়া  অ্যালীল উপস্থিত থাকে ।

লিঙ্গ সংযোজিত উত্তরাধিকার কি ? What is Sex Linked inheritance?

যে প্রক্রিয়ায় X ক্রোমোজোম স্থিত  জিন সমুহ নির্দিষ্ট নিয়মে বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয় তাকে লিঙ্গ সংযোজিত উত্তরাধিকার বলে ।এই কারনে পিতার লিঙ্গ সংযোজিত জিনগুলি কন্যা  সন্তানেরা এবং মাতার লিঙ্গ সংযোজিত জিন গুলি পুত্র সন্তানেরা লাভ করে।

মানুষের ক্ষেত্রে বহু   X –সংযোজিত জিনের উপস্থিতির কথা জানা গেছে, এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুলি হল – হিমোফিলিয়া রোগের জন্য দায়ি জিন , বর্ণান্ধতার জন্য দায়ী জিন প্রভৃতি ।দ্রসোফিলা মাছির ক্ষেত্রে সাদারঙ্গের চোখের জন্য দায়ী জিন টিও একটি    X –সংযোজিত জিন।মানুষের লোমোশ কানের জন্য দায়ী জিন Y –সংযোজিত   বা হল্যান্ড্রিক জিন ।

এবার আসি  লিঙ্গ সংযোজিত উত্তরাধিকার এর ক্ষেত্রে এতক্ষন যা যা আলোচনা করলাম –সেটির মধ্য সব থেকে গুরুত্ব পূর্ণ ফর্মুলা –একে থাম্ব রুলের মত মনে রাখতে হবে সেটি হল –

যেহেতু পুরুষদের একটি এক্স ক্রোমোজোম এবং X –সংযোজিত এসব রোগের জন্য দায়ী জিন গুলি সব প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য যুক্ত হওয়ায় পুরুষ দের ক্ষেত্রে হেমিজাইগাস ( একটি মাত্র প্রচ্ছন্ন জিন) থাকলেই সেই লক্ষণ টি প্রকাশিত হবে ।

কিন্ত স্ত্রীদের ( ২টি  X –ক্রোমোজোম  )এদের  ক্ষেত্রে  ঐ রোগটি বা লক্ষন টি প্রকাশিত হতে গেলে  একজোড়া প্রচ্ছন্ন জিন তবেই সেই রোগের প্রকাশ ঘটবে , নতুবা স্ত্রী রা  ঐ রোগের জন্য দায়ী জিন বহন করবে  কিন্তু সেই রোগ টি প্রকাশিত হবে না –

হেমিজাইগাস জিনটাইপ-

জীবের একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশের জন্য  দায়ী হল দুইটি জিন,

উদাহরন-মটর গাছের  কান্ডের দৈর্ঘ্য – এটি হল একটি ফিনোটাইপিক  চরিত্র  বা ট্রেইট (Trait)- আর এই চরিত্র বা ফিনোটাইপিক ট্রেইট টি প্রকাশিত হয়  হোমোলোগাস  ক্রোমোজোম জোড়ায় অবস্থিত দুইটি  সম বা বীপরীত ধর্মী বৈশিষ্ট্য নির্ধারন কারী জিন দ্বারা-  T (লম্বার জন্য দায়ী জিন) ওt (বেঁটে র জন্য দায়ী জিন  )।

এবার নিশ্চয় বিষয় টি পরিষ্কার যে একটি ফিনোটাইপিক চরিত্রের  প্রকাশ = দুটি জিন এর উপস্থিতি

হতে পারে তারা সম ধর্মী বা বীপরীত ধর্মী । যেমন

লম্বা = T T

      লম্বা= T t

       বেঁটে = t t

  এটি স্বাভাবিক সূত্র, কিন্তু সেক্স লিঙ্কড উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে আমরা এর ব্যতিক্রম দেখতে পাব।

অনেক ক্ষেত্রে জীবের একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের  প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয়   দুইটি জিন এর জায়গায় একটি মাত্র জিন উপস্থিত থাকে ।এইরূপ বিশেষ জিনোটাইপ কে হেমিজাইগাস জিনোটইপ বলে । পুরুষ দের সেক্স ক্রোমোজো্ম দুটি হল X ক্রোমোজোম     Yক্রোমোজোম (অর্থাৎ পুরুশ দের  ক্ষেত্রে বাকি ২২ জোড়া ক্রোমোজোম প্রত্যেকরই   হোমোলোগাস ক্রোমোজোম থাকলেও Xক্রোমোজো্ম এর কোনো জোড়া নেই )। তাই পুরুষ দের Xক্রোমোজো্ম এ অবস্থিত জিনগুলি  হেমিজাইগোস থেকেই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়।

এতক্ষন ধরে আমরা টুকরো টুকরো ভাবে এই অধ্যায় বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় কন্সেপ্ট গুলি বুঝে নিলাম।

এবার সরাসরি সংজ্ঞায় –

লিঙ্গ সংযোজিত বংশগতি-

বংশগতির যে বিশেষ ধারায় লিঙ্গ সংযোজিত প্রচ্ছন্ন প্রচ্ছন্ন জিনগুলি গ্যামেটের মাধ্যমে  এক জনু থেকে পরবর্তী জনুতে আঁকা বাঁকা  (Cris-Cross)  পথে (একজনুর পুরুষ থেকে পরবর্তি জনুর মহিলায় এবং তারও পরবর্তী জনুর পুরুষে ) সঞ্চারিত হয় এবং হেমিজাইগাস্ব পুরুশ ও হোমোজাইগাস মহিলায় ঐ প্রচ্ছন্ন জিনের ঘটে  তাকে লিঙ্গ সংযোজিত বংশগতি বলা হয়।

মানুষের হিমোফিলিয়া রোগের বংশগতি-

মানুষের ক্ষেত্রে রক্ত তঞ্চনের অক্ষমতা জনিত কারনে হিমোফিলিয়া রোগের সৃষ্টি হয়।রক্ত তঞ্চনের প্রয়োজনীয় একটি উপাদানের সংশ্লেষ জনিত অক্ষমতার কারনে এই রোগ দেখা যায়।

ধরা যাক , রক্ত তঞ্চনের জন্য দায়ী উপাদান সংশ্লেষ কারি স্বাভাবিক ও প্রকট জিনটি  হল  +   ও উপাদান সংশ্লেষে অক্ষম জিনটি হল  h

 এবার একজন পুরুষ - Xh  Y  ( ইনি হবেন হিমোফিলিয়া রোগী   )    যদি  তিনি  X+ হন তবে তিনি হবেন স্বাভাবিক পুরুষ অর্থাৎ তিনি হিমোফিলিয়া রোগোগ্রস্ত হবেন না । পুরুষদের ক্ষেত্রে এই দুই ধরনের ই সম্ভাবনা হতে পারে , হয় তিনি  হিমোফিলিয়া রোগি হবেন বা তিনি সম্পূর্ন স্বাভাবিক হবেন ।

(বিঃদ্রঃ - এখানে লেখাতে  এডিট  প্রব্লেম এর জন্য সব   +  চিহ্ন গুলিকে    '  চিহ্ন দেখাচ্ছে -একতু কষত করে বুঝে নেবেন । নো টস এ ঠিক আছে )

এবার দেখে নিই মহিলাদের ক্ষেত্রে কি কি সম্ভাবনা হতে পারে ?

তিনি হতে পারেন   -  X+ X+        (সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মহিলা )

X+Xh           (স্বাভাবিক মহিলা কিন্তু হিমোফিলিয়ার জিন বাহক )

অথবা         Xh Xh          (হিমোফিলিয়া রোগী  )

কেস-১- একজন হিমিফিলিয়া রগাক্রান্ত মহিলার সঙ্গে একগন সম্পূর্ণ সুস্থ পুরুষের বিবাহ হল  ,আমরা প্রথম অপত্যজনুতে কি কি পাব , এবং তার পরবর্তীতে ২য় অপত্য জনু পর্যন্ত কি ফলাফল পাব?

এই বার আমরা একটি ছকের সাহায্য নিয়ে বোঝার চেষটা  করি –

উপরের ছকের F-2  জনুকে আমরা বোঝার সুবিধার জন্য এঁকে এঁকে দেখলাম , একবার বোঝা হয়ে গেলে পরবর্তীতে সমস্যা সমাধান এর জন্য আমরা চেকার বোর্ড এর সাহায্যে দ্রুত করতে পারি ।

গ্যামেট

 স্ত্রীপুং

Xh

Y

X+

X+ Xh

স্বাভাবিক মহিলা কিন্তু বাহক

X+Y

স্বাভাবিক পুরুষ

Xh

Xh Xh

হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত মহিলা

Xh  Y

হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত পুরুষ

সিধান্ত/ ফলাফল –

১।  ৫০% মহিলা হিমোফিলিক , ৫০% স্বাভাবিক কিন্তু বাহক এবং পুরুষ দের ক্ষেত্রে ৫০% পুরুষ  স্বাভাবিক ও ৫০%    পুরুষ  হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত ।

২। পিতৃ জনু বা P জনুর স্ত্রী থেকে পরের জনুর পুরুষে – এবং আবার F1 জনুর পুরুষ থেকে তার পরের জনুর অর্থাৎ   F2 জনুর স্ত্রীদেহে লিঙ্গ সংযোজিত বশগতি সঞ্চারিত হয় – আঁকা বাঁকা পথে সঞ্চারিত হচ্ছে, এটি  Criss Cross Inheritance .

 কেস নং -২

সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একজন মহিলার সঙ্গে একজন হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত পুরুষের বিবাহ হল।

স্বাভাবিক মহিলা                       X                          হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত পুরুষ

     (X+ X+)                                                     (  Xh  Y)

 

 গ্যা মেট                  X+                                                        Xh                    Y

 

F-1 জনু                     X+ Xh                          X                                     X+Y

                            স্বাভাবিক মহিলা কিন্তু বাহক                                                স্বাভাবিক পুরুষ

গ্যা মেট         X+                 Xh                                       X+                               Y

 

F-2 জনু-

গ্যামেট

 স্ত্রীপুং

X+

Y

X+       X+  X+ স্বাভাবিক মহিলা

X+Y

স্বাভাবিক পুরুষ

Xh

X+ Xh

স্বাভাবিক মহিলা কিন্তু বাহক

Xh  Y

হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত পুরুষ

 

লাফল –

১।  ৫০% মহিলা হিমোফিলিইয়া রোগের বাহক  , ৫০% স্বাভাবিক

এবং পুরুষ দের ক্ষেত্রে ৫০% পুরুষ  স্বাভাবিক ও ৫০%  পুরুষ  হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত ।

কেস-৩

স্বাভাবিক অথচ বাহক একজন মহিলার সঙ্গে একজন হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত পুরুষের বিবাহ হল।

স্বাভাবিকঅথচ বাহক     মহিলা                       X                          হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত পুরুষ

     (X+ Xh)                                                     (  Xh  Y)

 

 গ্যা মেট          X+               Xh                                         Xh                        Y

 

 

F-1 জনু-

 স্ত্রীপুং

Xh

Y

X+       X+ Xh স্বাভাবিক মহিলা   কিন্তু বাহক

X+Y

স্বাভাবিক পুরুষ

Xh

Xh  Xh

হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত মহিলা

Xh  Y

হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত পুরুষ

ফলাফল –

১।  ৫০% মহিলা হিমোফিলিয়া রোগের বাহক  , ৫০% মহিলা  হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত

এবং পুরুষ দের ক্ষেত্রে ৫০% পুরুষ  স্বাভাবিক ও ৫০%  পুরুষ  হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত ।

কেস-৪ 

স্বাভাবিক অথচ বাহক একজন মহিলার সঙ্গে একজন স্বাভাবিক একজন পুরুষের বিবাহ হল 

স্বাভাবিকঅথচ বাহক     মহিলা                       X                          স্বাভাবিকপুরুষ

     (X+ Xh)                                                     (  X+  Y)

 

 গ্যা মেট          X+               Xh                                         X+                         Y

 

 

F-1 জনু-

 স্ত্রীপুং

X+

Y

X+       X+  X+      স্বাভাবিক মহিলা   

X+Y

স্বাভাবিক পুরুষ

Xh           X+Xhস্বাভাবিক মহিলা কিন্তু বাহক

Xh  Y

হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত পুরুষ

ফলাফল

১।  ৫০% মহিলা হিমোফিলিয়া রোগের বাহক  , ৫০% মহিলা  স্বাভাবিক

এবং পুরুষ দের ক্ষেত্রে ৫০% পুরুষ  স্বাভাবিক ও ৫০%  পুরুষ  হিমোফিলিয়া রোগগ্রস্ত ।

উপরের একের পর এক কেস গুলি একটু মনোযোগের সঙ্গে বোঝার চেষ্টা করলেই দেখতে পাবে , বিষয় টি অনেক পরিষ্কার লাগছে –এবার আসি মানুষের ক্ষেত্রে    বর্ণান্ধতার বংশগতি   Inheritance of Colour Blindness

মানুষের ক্ষেত্রে লাল সবুজ ও নীল এই তিনটি প্রাথমিক বর্ণকে উপলব্ধি করার অক্ষমতাকে বলে বর্নান্ধতা।জনসংখ্যার প্রায় ৮% পুরুষের মধ্যে এই রোগটির উপস্থিতি দেখা যায়।মহিলাদের ক্ষেত্রে এই রোগটি বিরল। বর্ণান্ধতা ও  X  ক্রোমোজোম সংযোজিত একটি একটি প্রচ্ছন্ন জিনের কারনে ঘটে । এর স্বাভাবিক ও প্রকট জিনটি  হল  +   ও বর্নন্ধতার জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন  জিনটি   c   ধরা গেল ।

এখন একজন স্বাভাবিক মহিলার  সঙ্গে একজন বর্নান্ধ পুরুষের বিবাহ হলে তাদের সন্তান সন্ততদের কি হবে ?

স্বাভাবিক মহিলা                                   X                                            বর্ণান্ধ  পুরুষ

     (X+ X+)                                                        (  Xc Y)

 

 গ্যা মেট                  X+                                                        Xc                    Y

 

F-1 জনু                     X+ Xc                       X                                     X+Y

                            স্বাভাবিক মহিলা কিন্তু বাহক                                                স্বাভাবিক পুরুষ

গ্যা মেট         X+                 Xc                                      X+                               Y

 

F-2 জনু-

গ্যামেট

 স্ত্রীপুং

X+

Y

X+       X+  X+ স্বাভাবিক মহিলা

X+Y

স্বাভাবিক পুরুষ

Xc

X+  Xc

স্বাভাবিক মহিলা কিন্তু বাহক

Xc   Y

বর্ণান্ধ পুরুষ

ফলাফল

১।  ৫০% মহিলা বর্ণান্ধতা  রোগের বাহক  , ৫০% স্বাভাবিক

এবং পুরুষ দের ক্ষেত্রে ৫০% পুরুষ  স্বাভাবিক ও ৫০%  পুরুষ  বর্ণান্ধ

এবার তোমাদের টাস্ক হল – বর্ণান্দতার ক্ষেত্রে বাকি কেস গুলি নিজে নিজেই সলভ্‌ করার চেষ্টা কর ।তাহলে দেখবে বিষয় গুলি অনেক সহজ হয়ে যাবে । শুধু শুধু তথ্য দিয়ে ভারাক্রান্ত না করে বিষয় বস্তু কে সহজ ভাবে উপস্তাপনের চেষ্টা করলাম । যেখানে বুঝতে অসুবিধা সঙ্গে সঙ্গে লিখে জানাও , আমি চেষ্টা করব সাহায্য করার ।

সম্পূর্ন নোট টির পি ডি  এফ ফাইল  এর  মিডিয়া ফায়ার ডাউন লোড লিঙ্ক নীচে-(মাত্র ৩০০ কেবি)

http://www.mediafire.com/?ovhxzpyjio27b1n

একটি ছোট্ট পাওয়ার পয়েন্ট প্রেসেন্টেশন  ডাউন লোড করে নেন ( মাত্র ৬০০ কেবি)

http://www.mediafire.com/?4qebs0f9dotsq0c

দেখি কেমন শিখলে

প্রশ্ন- ১। বর্নান্ধতা রোগের বাহক কোনো মহিলার সাথে একজন স্বাভাবিক পুরুষের বিয়ে হল , তাদের সন্তান দের মধ্যে কত শতাংশ বর্নান্ধ হবে ? দেখি কত জন উত্তর করতে পারছ , যত দ্রুত পারবে লিখে পাঠাও , সঙ্গে থাকো , খোদা হাফেজ ।।