ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং হতে সাবধান!পোস্টটি পরে অভিজ্ঞতা নিন।

সকল পাঠকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার জিবনে ঘটে যাওয়া একটি চরম অভিজ্ঞতার কাহিনী বলবো।কাহিনীটির প্রথমে অনেক কষ্টের থাকলেও পরে সব কিছু বুঝতে পেরে,আমি উপলগ্ধি করলাম এ আমার জিবনের এক চরম অভিজ্ঞতা।অবশ্য আমার অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে।আসলে মানব জীবনে কোন দিন বিপদে না পরলে,সঠিক জিনিসটা সম্পুর্ন বুঝা যায় না ।মুল কাহিনীতে আসি,ঘটনাটা ঘটে গত জুলাই মাসে,সামনের মাসে ঈদ, তাই মাস শেষ হবার আগে সবার কাছে বাড়ি ভাড়া চাওয়া হল।তো আমার ম্যাসের এক ছোট ভাই সে আমাকে বললো ,ভাই আপনার তো ডাচবাংলা মোবাইল ব্যাংক এ অ্যাকাউন্ট আছে। তো আমার বাড়ি থেকে ২২০০ টাকা পাঠাবে,আপনার অ্যাকাউন্ট টা কি ব্যবহার করা যাবে ।আমি একটু মনে মনে ভাবলাম (আমি তো এই অ্যাকাউন্ট কোনদিন ব্যবহার করি নাই) যাক তাহলে এবার টাকা উঠানোর অভিজ্ঞটা হোক ।আমি ওকে ঠিক আছে বললাম । সজিব (ছোট ভাই) ওর বাড়িতে ফোন করে সব ব্যবস্থা করল ।পরের দিন সকাল ১০ টায় আমাকে বললো ভাই চলেন আমার বড় বোন ব্যাংকে আসছে ।আমি বললাম ok চল।আমরা মালীবাগ মোড়ের  ফাস্ট-ট্রাকটিতে গেলাম,এর মাঝে ওর বোনের ফোন আসলো,সে বললো যে আমার দেওয়া অ্যাকাউন্ট নাম্বার এ সে টাকা পাঠিয়েছে । আমারা দেরি না করে বুথ এ গিয়ে অ্যাকাউন্ট নাম্বার ও পাশওয়ার্ড দিয়ে ,আমার অ্যাকাউন্ট এ প্রবেশ করলাম ।তার পর,টাকার ঘরে, যেহেতু ২২০০ টাকা পাঠাইছে সো আমি ২২০০ টাকাই চাপলাম তার পর এন্টার দিতে আমার মোবাইল একটা কল আসলো এবং আমাকে পিন দেওয়ার জন্য অনুরোদ করা হল,আমি দিলাম ,তারপর মিষ্টি সুরে আমাকে ওয়েলকাম জানিয়ে লাইন টি কেটে গেলো ,আমরা তো বুথের মুখের দিকে তাকিয়ে আছি ,টাকা কেন বের হচ্ছে না । এটাকি ৫ মিনিট হয়ে গেলো কিন্তু টাকা কৈ । আবার অ্যাকাউন্ট এ ডুকলাম দেখি পযাপ্ত পরিমানে টাকা নাই,এইতো মাথায় গ্যালো আগুন ধরে ।এখন কি করবো ,দারওয়ানকে বললাম, সে বলল হায়রে ভাই আপনার টাকা তো কাইটা নিয়া গ্যাছে।এবার বুঝেন তো মাথায় কি পরলো ।আর ছোট ভাইয়ের কাছে তো আমি ১ ফুট হয়ে গেলাম।তার পর শুরু হল আমাকে নিয়ে গেম । দারওয়ান কে বললাম ভাই এখন কি করবো,সে বলল আপনারা শান্তি নগর ব্রাঞ্চে জান । দেরি না করে চলে গেলাম ,অফিসার কে বললাম but কেন জানি সে আমাকে মূলায়ন করলো না । তার পর ঐ অফিস এর দারওয়ান আমাকে পরামর্শ দিল যেখান থেকে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে সেখানে জান। আমি আবার অফিসার কে বললাম এবার সে অ্যাকাউন্ট টা চেক করে বললো যে আমার অ্যাকাউন্টটে ৯৯ টাকা আছে । আমি তাকে সব বললাম সে তেমন কিছু না বলে বললো কালকে এসে একটা অভিযোগ লিখে যায়েন ।এবার দারওয়ানের কাছে গেলাম সে ঐ আগের কথায়ই বললো,আর দেরী না করে আমি শান্তিনগর থেকে মালিবাগ রেলগেট অফিস এ গেলাম ।গিয়ে সব কিছু বললাম ,তারা আমাকে সান্তনা দিয়ে বললো সমস্যা নেই ।আপনি অভিযোগ ফরম টা পূরুন করে রেখে জান ১৫_২০ দিনের মধ্যে টাকা আপনার অ্যাকাউন্ট এ জমা হবে। মনে মনে বললাম যাক বাঁচা গেলো ।ফরম পূরন করতে গিয়া আবার দৌড়াতে হল ।অফিসার বললো যেই atm both এ টাকা উঠাতে গিয়েছিলাম তার নাম্বার লাগবে ।আবার গেলাম মালিবাগ মোরে ,নাম্বার লিখে ফরমটা জমা দিয়ে,বাসায় গেলাম ,ছোট ভাইয়ের তো মন খারাপ ।আমি তাকে বুঝালাম , সে আমাকে বললো যে ভাই আমি এখন বাড়ি ভাড়া কিভাবে দিব,আমার দেশে যাওয়ার টাকাও তো নেই । আমি বললাম আচ্ছা,আমি দেখতাসি ।আসলে আমার কাছেও টাকা ছিল না । কি আর করবো বন্ধুর কাছে হাত পাততে হল।কিন্তু মাসের শেষ তাই ওড় কাছেও টাকা নেই। এখন কি করবো,পরে বাসায় গেলাম,সজিব আমাকে বলল যে,আপনার কষ্ট করার দরকার নেই,আমি আমার এক কাকার কাছ থেকে টাকা ধার করে আনব। ওড় কথা শুনে আমি যেন ১ ফুট থেকে ৬ ইঞ্চি হয়ে গেলাম,তখন নিজেকে একটা অপদার্থ মনে হয়েছিলো। যাক তবুও জামেলা তো গ্যাছে ।এর পর ১০ দিন পর আমার নাম্বার এ এসএমএস আসলো যে,আপনার অ্যাকাউন্ট এ ২২০০ টাকা জমা হইসে । এসএমএস টা দেখে খুব ভালো লাগলো ।

এই ছিল আমার ঘটনা । পরে আমি জানতে পারলাম atm both  থেকে টাকা উঠাতে গেলে somehow  কিছু টাকা ভ্যাট কাটে ।আমার ভুল হইছিল ২২০০ টাকাই ২২০০ টাকা চাপা । অবশ্যই এত কিছু পড়ার পর সব বুঝতে পারছেন । আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম যাতে আপনার মাথায় কখনো বাঁশ না পরে ।আসলে আমি ভালো করে কথা গুলা গুছিয়ে লিখতে পারি না কিন্তু চেষ্টা করেছি । সকলে ভালো থাকেন,সাবধানে থাকেন । আমার জন্য দোয়া করবেন জানি সবসময় সুখে থাকি। এতখন ধরে কষ্ট করে ঘটনাটা পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।