ফটোশপ জোন (পর্ব-১:বেসিকঃ তৃণমূল পর্যায় থেকে)

এটি 37 পর্বের ফটোশপ জোন চেইন টিউনের 1 তম পর্ব

2D গ্রাফিক্সের জগতে ফটোশপ এক অনন্য নাম।কী করা যায় না এতে!!!এনিমেশন,ব্যানার ডিজাইনিং,লোগো ডিজাইনিং,ওয়েব ডিজাইনিং,টেক্সট ইফেক্ট......আরো কত কি!!! ফ্রিল্যান্সিংএ তথা আউটসোর্সিং ইনকামেও রয়েছে এর ব্যাপক প্রসার।সুপ্রিয় বন্ধুরা,ফটোশপের জনপ্রিয়তা আর এর আবেদনের কথা মাথায় রেখে আমি তাই আজ থেকে আপনাদের কাছে পর্বভিত্তিক ফটোশপ টিউটোরিয়াল উপস্থাপন করছি।আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।
বিঃদ্রঃ এই টিউটোরিয়ালটি আমার ফটোশপের অন্যান্য টিউটোরিয়ালের আগে প্রকাশ করা উচিত ছিল আপনাদের কাছে বেসিকটা পুরোপুরি পরিস্কারভাবে তুলে ধরার জন্য।আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।আমার ফটোশপের উপর লেখা অন্যান্য টিউটোরিয়ালগুলো দেখার আগে এই টিউনটি দেখলে আশা করি বুঝতে সুবিধা হবে।
আজ আমরা ফটোশপ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা নেব।(আমি এক্ষেত্রে photoshop cs ভার্সন ব্যবহার করেছি,তবে এতে পাঠকদের বুঝতে কোনো অসুবিধা হবে না,কারণ,সকলের বধোগম্য হওয়ার জন্যই আমি এই ভার্সনটা বেছে নিয়েছি)।সম্পূর্ণ বেসিক বর্ণনার মাধ্যমে দেয়া সম্ভব নয়। ফটোশপ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা লাভ করবেন বিভিন্ন প্রজেক্ট করার মাধ্যমে যা পরবর্তী পর্ব থেকে শুরু করেছি।তবে প্রজেক্ট সহজে বুঝার জন্য যা কিছু জানা প্রয়োজন তা এ পর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
ফটোশপ ইন্সটলেশনের পরে (ইন্সটলেশন প্রক্রিয়া অন্যান্য সাধারণ সফটওয়্যারের মত বলে তা দেখানো হল না) তা রান করলে নিচের মত উইন্ডো দেখতে পাবেন।

এই উইন্ডোর উপরের দিকে আছে মেনুবার।

ডানে আছে প্যালেট

চিত্রে প্রদত্ত প্রতিটি ট্যাবই একেকটি প্যালেট,যেমন নিচের দিকে আছে লেয়ার প্যালেট,চ্যানেল প্যালেট এবং পাথ প্যালেট।এর মধ্যে লেয়ার প্যালেট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।প্রতিটি লেয়ার একেকটি স্বচ্ছ কাঁচের মত কাজ করে,যে কাঁচের ভিতর দিয়ে এর নিচে অবস্থিত কাঁচে(লেয়ারে) আঁকা ছবিটি দেখা যায়।আপনি ইচ্ছা করলে উপরের কাঁচেও(লেয়ারেও) ছবি আঁকতে পারেন,দেখে মনে হবে যেনো,উপরের কাঁচের(লেয়ারের) ছবিটি নিচের কাঁচের(লেয়ারের) ছবিরই একটি অংশ।উপরের কাঁচের(লেয়ারের) ছবিটি মুছলেও নিচের কাঁচের(লেয়ারের) ছবির উপর এর প্রভাব পড়বে না।এটিই লেয়ারের বৈশিষ্ট্য।উপরের দিকে আছে swatches ও color প্যালেট,যা ফরগ্রাউন্ড ও ব্যাকগ্রাউন্ড কালার ঠিক করতে ব্যবহৃত হয়।এছাড়াও আছে style প্যালেট।অবশ্য এই প্যালেটের কাজ Blending option থেকেও করা যায়।এই ব্যাপারে আপনারা পরে জানতে পারবেন।

বামদিকে আছে টুল প্যালেট।এতে আছে


১)মুভ টুলঃ এর মাধ্যমে ছবির যেকোনো অংশকে অথবা পুরো ছবিকে মুভ করা হয়।
২) )Marquee tool: ছবির যেকোনো অংশ সিলেক্ট করা হয় এর মাধ্যমে।এর বিভিন্ন shape আছে।এর আইকনের নিচের কোণায় ক্লিক করলে এর অন্যান্য shape গুলো দেখা যায়।এই টুলের অধীনে যেসব টুল থাকে তারা হল
ক)Rectangle marquee tool
খ)Elliptical marquee tool


গ)Single row marquee tool
ঘ)Single column marquee tool

৩)Magic wand tool:

এর মাধ্যমে ছবির কোনো জায়গায় ক্লিক করলে ওই জায়গায় যে রঙ থাকে,ছবিতে ওই রংবিশিষ্ট যত জায়গা আছ,ওই জায়গাগুলো একসাথে সিলেক্ট হয়।(প্রজেক্ট করতে গেলে ব্যাপারটা আরো ভালো ভাবে বুঝা যাবে।)
৪)Lasso tool: এর অধীনে তিনটি টুল আছে

ক)Lasso tool: এই টুলটির মাধ্যমে ছবির যে জায়গা সিলেক্ট করতে হবে তার উপর মাউস দিয়ে ধরে ড্র্যাগ করে ঘুরিয়ে যেখান থেকে সিলেকশান শুরু করা হয়েছিল


সেখানে এনে শেষ করতে হয়।ফলে একটি লুপ তৈরি হবে।
খ)Polygonal lasso tool: এর কাজও একই তবে এর সাহায্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর ক্লিক করতে করতে প্রয়োজনীয় জায়গা সিলেক্ট করতে হয়।(প্রজেক্ট করতে গেলে ব্যাপারটা বুঝা যাবে)।
গ)Magnetic lasso tool: এক্ষেত্রে মাউসে ক্লিক করে ধরে রাখতে হয় না।যেখান থেকে সিলেক্ট করা শুরু করবেন সেখানে একটি ক্লিক করে যে জায়গা সিলেক্ট করতে হবে তার কিনারা বরাবর মাউস ঘুরিয়ে আনুন।তবে এক্ষেত্রে যে জায়গা সিলেক্ট করবেন তা এক কালারের হওয়া উচিত।এই টুলটি নিজে নিজেই একই রঙ ডিটেক্ট করতে করতে সিলেকশান তৈরি করবে।(প্রজেক্ট করতে গেলে ব্যাপারটি আরো ভালোভাবে বুঝা যাবে)

৫ )Brush tool: এর দুটি টুল
Brush tool: এটি হল তুলি।এর ডায়ামিটার,সাইজ ইত্যাদি, মেনুবারের নিচের আরেকটি বার থেকে নির্ধারণ করা হয়।

Pencil tool: এটি হল পেন্সিল যা সাধারণ পেন্সিলের মতই কাজ করে।
৬) ক)Clone stamp tool:
এটি সিলেক্ট করে ডাযামিটার ঠিক করে ছবির কোনো অংশে Alt বাটন ধরে ক্লিক করলে,টুলটির ডায়ামিটার যত,তত ডায়ামিটার বিশিষ্ট এরিয়ার মধ্যে ছবির ঐ অংশের একটি কপি তৈরি হয়।এখন মাউসটিকেছবির অন্য কোথাও ক্লিক করলে ক্লিক করা স্থানে একটি বৃত্ত দেখা যাবে(বৃত্তের ব্যাস হবে টুলটির জন্য সিলেক্টেড ডায়ামিটার) এবং এর নিচে যেখানে Alt ধরে ক্লিক করে ছবির একটি অংশ কপি করা হয়েছিল সেখানে একটি (+)চিহ্ন দেখা যাবে এবং কপি করা অংশটি ঐ বৃত্তের মধ্যে পেষ্ট হবে।এখন ক্লিক করে ছেড়ে না দিয়ে মাউস ড্র্যাগ করতে থাকলে বৃত্ত এবং (+)চিহ্ন উভয়েই ড্র্যাগ হবে নিজেদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে।এক্ষেত্রে (+)চিহ্ন যেখানে যাবে ছবির সে অংশের একটি কপি তৈরি হবে এবং তা বৃত্ত যেখানে থাকবে সেখানে পেষ্ট হবে।

খ)Pattern stamp tool: ফটোশপে কিছু বিল্ট-ইন প্যাটার্ন আছে।যেকোনো প্যাটার্ন সিলেক্ট করে এই টুল দিয়ে ছবির যেকোনো অংশে অই প্যাটার্ন আঁকা যায়।

৭ )Blur tool,Sharpen tool,Smudge tool:

Blur tool দিয়ে কোনো ছবি ঝাপসা করা হয়।এক্ষেত্রে মাউস দিয়ে বারবার উক্ত জায়গায় ড্র্যাগ করা হয়।

নিচের ছবিটিএকটি স্বাভাবিক ছবি

Blur tool ব্যবহারের পরে

Sharp tool দিয়ে ড্র্যাগ করে ছবির Sharpness বাড়ান হয়

Smudge tool দিয়ে ড্র্যাগ করলে নিচের মত ইফেক্ট পাওয়া যাবে।

৮)Dodge,Burn ও Sponge tool:

Dodge tool দিয়ে ড্র্যাগ করে ছবির Brightness বাড়ান হয়

Burn tool দিয়ে ড্র্যাগ করার ফলে কালার বার্ন ইফেক্ট লাভ করে।

Sponge tool দিয়ে ড্র্যাগ করে ছবি সাদা কালো করা হয়।

৯)Eyedropper tool:

এটি সিলেক্ট করে ছবির যে জায়গায় ক্লিক করা হবে সেই জায়গার রঙ forground color হিসেবে সেট হবে।
ছাড়াও Zoom tool দিয়ে ছবি বড়-ছোট করা,
Shape tool দিয়ে নিচে প্রদত্ত Shape গুলো তৈরি করা যায়।

টুলপ্যালেটের নিচের দিকে পাশের চিত্রের মত দুটি color এর আইকন দেখা যায়।উপরের color টি Forground color এবং নিচের color টি Background color. ফটোশপে যে প্লাটফর্মে কাজ করা হয় তাকে ডকুমেন্ট বলে।মেনুবারের File থেকে New কমান্ড দিলে ডকুমেন্ট open হয়।

ফলে নিচের চিত্রের মত একটি বক্স আসে যেখান থেকে আপনাকে ডকুমেন্টের সাইজ নির্ধারন করে দিতে হয়।

এখানে height এবং width এর মান ইচ্ছামত দিতে পারেন আবার preset বক্স থেকেও predefined মান নির্ধারণ করে দিতে পারেন।Height এবং width এর একক হিসেবে pixel,inch,cm,mm সিলেক্ট করতে পারেন।এরপর ok বাটনে ক্লিক করার পর আপনার দেয়া মানের উপর ভিত্তি করে নিচের মত উইন্ডো পাবেন।এখানেই আপনাকে ফটোশপের কাজ করতে হবে।

মূলত ফটোশপে হাতেখড়ি দেয়ার জন্য যা জানা দরকার,এটা মোটামুটিভাবে তাই।এর বাইরেও অনেককিছু আছে।তবে সব কিছু তো আর এভাবে বর্ণনা করা সম্ভব নয়।আর তাছাড়া এভাবে সব কিছু বর্ণনা করলে আপনাদের তা মনেও থাকবে না।তাই পরবর্তী পর্বে প্রজেক্টের মাধ্যমে ফটোশপ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছি।আর প্রজেক্টগুলো বুঝতে যেনো কোনো সমস্যা না হয় তাই এ পর্বে ফটোশপ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা দিলাম মাত্র,আর কিছু নয়।সবাই ভালো থাকবেন।
ফটোশপ সংক্রান্ত আমার অন্যান্য পোষ্টঃ

ফটোশপ জোন(পর্ব-২: একটি সাধারণ কিন্তু দৃষ্টিনন্দন ওয়ালপেপার)

ফটোশপ জোন (পর্ব -৩ : বিষয়- আগুন তৈরি )

ফটোশপ জোন (পর্ব-৪ : দৃষ্টিনন্দন পানির ফোটা )

ফটোশপ জোন(পর্ব-৫ : কাস্টম অর্থাৎ নিজের পছন্দমত যেকোনো আকারের ব্রাশ তৈরি)