Quantcast
ADs by Techtunes tAds
ADs by Techtunes tAds

চলুন জানি পিরামিড, আরো একটি মমির অভিশাপ এবং টাইটানিকের পরিনতির আসল কারন সম্পর্কে [মেগা টিউন]

ADs by Techtunes tAds

যিশু খ্রিস্টের জন্মেরও প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মিসরে গড়ে উঠেছিল এক অসাধারণ সভ্যতা। নীল নদের তীরে সভ্যতায় গড়ে উঠেছিল সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন রহস্যমণ্ডিত পিরামিড। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এত প্রাচীন হলেও সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে একমাত্র পিরামিডই এখনো পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। রাজবংশের রাজাদের মমি সমাধিস্থ করা হতো পিরামিডের ভিতরের গোপন কক্ষে। আর রাজার সঙ্গে সঙ্গে সমাধিস্থ করা হতো প্রচুর ধনরত্ন, দাস-দাসী।

আজকের আধুনিক বিজ্ঞানীদের কাছেও পিরামিড এক অজানা রহস্য। যার কাঠামো আধুনিক বিজ্ঞানের সব শাখায়ই খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আর্কিটেকচারাল হিসেবে এ ধরনের কাঠামো সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প প্রতিরোধক এবং স্থায়ী হয়ে থাকে। সম্প্রতি দেখা গেছে যে, পিরাপিড আসলে একটা রেশনাল স্ট্রাকচার। বিশাল সব পাথর কেমন করে শত শত ফুট ওপরে তোলা হয়েছিল জানে না কেউ। জানে না কেমন করে কাঁটা হয়েছিল পাথরগুলো। কারণ পাথরগুলোর ধার এতই মসৃণ যে, অতি উন্নত যন্ত্র ছাড়া যেটা সম্ভব নয়। এখানেই শেষ নয়, মৃতদেহকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ায় মমি করে রাখত। এ কাজে তারা বিশেষ কিছু রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করত। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানীরা এখনো ধরতে পারেননি তাদের সেই পদ্ধতি।

পিরামিডের গঠনশৈলীর প্রভাব পৃথিবীব্যাপী। আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগেকার মানুষের তুলনায় অস্বাভাবিক রকম বড় পাথরগুলো কিভাবে এত উপরে তোলা হয়েছিল, আধুনিক যুগের মানুষের কাছে এটা খুব বড় একটা রহস্য। সাধারণ রাস্তার উপর দিয়ে কোনো গাড়ি বা যন্ত্র ছাড়া এত বড় পাথর টেনে আনা কত অসাধ্য তা আমরা সবাই কল্পনা করতে পারি। কিন্তু মিসরের মরুভূমির বালুর উপর দিয়ে এত বড় পাথর টেনে আনা কত অসাধ্য তা আমাদের কল্পনার বাইরে। কেউ কখনো বালির উপর দিয়ে সাইকেল চালাতে গেলেই দেখা যায় বালি কিভাবে তার উপর দিয়ে চলমান বস্তুকে টেনে ধরে। তখনকার সময়ে মিসরে এমন কোনো প্রযুক্তি ছিল না যার দ্বার তারা এ বিশাল বিশাল স্থাপনাগুলো তৈরি করতে পারে। আর এ কারণেই এখনো অপার রহস্যের নাম পিরামিড।

মিসরের পিরামিডই হলো সবচেয়ে বিস্ময় জাগানিয়া স্থাপত্যগুলোর মধ্যে একটি, কিন্তু শুধু মিসর নয় বরং পৃথিবীর আরো নানা স্থানে রয়েছে আরো অনেক পিরামিড। ঠিক কি কারণে এবং কোনো যান্ত্রিক সুবিধা ছাড়াই কীভাবে নির্মিত হয়েছিল এই পিরামিডগুলো? জানি, এ রকম নানা প্রশ্ন ঘোরাফেরা করেছে আপনার মনে কিন্তু হয়তো জানা হয়নি তেমন কিছুই।

মিসরে প্রচুর পিরামিড দেখতে পাওয়া যায়। তবে সর্ববৃহৎ এবং সবচেয়ে প্রাচীন গির্জার খুফুর পিরামিড পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তমাশ্চর্যের একটি। খ্রিস্ট পু. ২৫৬০ সালে ফারাও রাজা খুফু নিজে এ পিরামিডটি তৈরি করেন। এই পিরামিড নিয়ে কয়েকটি মজার ব্যাপার রয়েছে। চার হাজার চারশত বছর ধরে এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থাপত্য কর্ম। ১৮৮৯ এ আইফেল টাওয়ার নির্মাণের পর এটি তার গৌরব হারায়। খুফুর পিরামিডের পাথরের গায়ে মূল্যবান লাইমস্টোন প্লাস্টার করা ছিল। পরে অন্য পিরামিডগুলো নির্মাণের সময়ে অন্য রাজারা এখান থেকে লাইমস্টোন নিয়ে নিজের সমাধিসৌধে লাগাতে শুরু করে। এই পিরামিডটিতে তিনটি কক্ষ রয়েছে। আর এই কক্ষগুলোতে ঢোকার জন্য পেরোতে হতো অনেকগুলো গোলক ধাঁধা। ইতিহাসের জনক হেরোডেটাসের মতে, এই পিরামিড তৈরিতে ১ লাখ লোকের ২০ বছর লেগেছিল।

ADs by Techtunes tAds

একটা সময়ে খুফুর পিরামিডের শীর্ষে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও এখন আর দেওয়া হয় না। কেননা পর্যটকের এবং পিরামিড দুটোরই ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে এতে।খুফুর পিরামিড সম্পর্কে বলে গেছেন দার্শনিক হেরোডেটাস। কিন্তু তিনি যে মতবাদ দিয়ে গেছেন তা পরবর্তীকালে ভুল প্রমাণিত হয়। কেননা আধুনিক প্রত্নতাত্তি্বকরা জানাচ্ছেন, খুফু এ পিরামিডটি তৈরিতে মূলত নীলনদের তীরবর্তী মানুষদের কাজে লাগিয়েছিলেন। সময় ২০ বছরের চেয়ে অনেক কম লেগেছিল।

তখনকার যুগে মিসরের লোকেরা ফারাও রাজাকে নিজেদের দেবতা মনে করত এবং মৃত্যুর পর তাদের পরবর্তী জীবনে চলার জন্য তার সমাধিতে তার মমিকৃত মৃতদেহের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে ধন সম্পদও দিয়ে দিত। পরে ফারাও রাজাদের এ সমাধিকে নিরাপদ করে দেয়ার জন্য এর উপর তৈরি করা হত পিরামিড আকৃতির কাঠামো। এখন পর্যন্ত গবেষণা অনুসারে ১৫৩৯ বিসি থেকে ১০৭৫ বিসি পর্যন্ত পিরামিডের মতো করে বা নির্ভেজাল লাইমস্টোন কেটে প্রায় ৬৩টি সমাধি তৈরি করা হয়েছিল। যার বেশির ভাগই অনেক দীর্ঘ এবং ক্রমে নিম্নগামী অসংখ্য ছোটবড় করিডরের জটিল বিন্যাসের মাধ্যমে অবশেষে গিয়ে ফারাওদের সমাধিতে গিয়ে শেষ হয়েছে। এ সমাধিগুলোতে নানা রকমের প্রতীক, দেয়ালে খোদাইকৃত ছবি, অন্যজগতে ভ্রমণের তথ্য এবং নতুন জীবনের প্রয়োজনীয় সব উপাদান দেওয়া থাকত। ধন-সম্পত্তি তো থাকতই। এর রুমগুলোর একদম কেন্দ্রে থাকত স্বর্ণমণ্ডিত ফারাও রাজাদের শবাধার। এ রুমগুলো খুবই সতর্কতার সঙ্গে সিল করে দেওয়া হতো এবং এ সমাধির মূল্যবান দ্রব্য রক্ষা করার জন্য তখনকার মিসরের শ্রেষ্ঠ আর্কিটেকরা চোরদের ধোঁকা দেওয়ার উপযোগী ডিজাইন করার দায়িত্ব পেত। মাঝে মাঝে প্যাসেইজ রাস্তাগুলো বন্ধ করার জন্য বিশাল এবং মজবুত গ্রানাইটের প্লাগ ব্যবহার করা হতো। চোরদের দমন করার জন্য নকল দরজা, গোপন রুম ইত্যাদি অসংখ্য ব্যবস্থার পরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমাধির প্রবেশ প্রথে কোনো অভিশাপ দিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এসব পূর্ব সাবধানগুলোর বেশির ভাগই ব্যর্থ হয়েছিল। প্রাচীন যুগের চোর এবং ডাকাতরা তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে ঠিকই সমাধির পথ খুঁজে বের করত এবং ধন-সম্পত্তি আত্মসাৎ করত।

চোরেরা যেমন ধনসম্পদ চুরির আশায় মমি খুঁজে বেড়াত, তেমনি গুপ্তধনের আশায় গবেষকরা হন্যে হয়ে সমাধিগুলোতে ঘুরে বেড়াত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মিসরের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপত্য আবিষ্কারের অভিযানগুলো পূর্ণাঙ্গ আঙ্গিকে শুরু হয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে। ১৯ শতাব্দীতে এসে ইউরোপীয়রাও এ গুপ্তধনের সন্ধানে আগ্রহী হয়ে ওঠে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের হতাশ হতে হয়েছিল, কারণ তারা অনেক গবেষণা করে কোনো সমাধি আবিষ্কার করে দেখত তাদের আগেই কেউ না কেউ গুপ্তধন সরিয়ে নিয়েছে। ১৮ শতাব্দীতেও সমাধিগুলোতে যেকোনো অভিশাপের অস্তিত্ব থাকতে পারে এটা সাধারণ মানুষ জানত না। কিন্তু ১৯ শতকের প্রথম দিকে ১৯২২ সালে হাওয়ার্ড কার্টার ও তার দল তুতেন খামেন নামক একজন ফারাও রাজার সমাধি এবং তাতে প্রচুর পরিমাণে ধন-সম্পত্তি খুঁজে পান। এরপর ঘটতে থাকে একের পর এক অদ্ভুত ঘটনা। তারপর থেকেই সমাধিগুলোতে যে অভিশাপও বিদ্যমান থাকতে পারে তা সবার নজরে আসে। কারণ এ সমাধিটির প্রবেশপথে খোদিত ছিল একটি অভিশাপ। যা এখন সারা বিশ্বেই তুতেন খামেনের অভিশাপ নামে পরিচিত।তুতেন খামেনের অভিশাপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন তারেক মাহাবুব  ভাই এর এই টিউনে।পিরামিডের মূল নির্মাতা মনে করা হয় মিসরের ফারাও রাজবংশকে। ধারণা করা হয়, জোসার শাসনামলে সর্বপ্রথম পিরামিডের নির্মাণকাজ শুরু হয়। পিরামিড নির্মাণে নিযুক্ত করা হয়েছিল বিপুল সংখ্যক দাস-দাসী। গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডেটাসের মতে, প্রায় এক লাখ লোকের দীর্ঘ বিশ বছরের পরিশ্রমে নির্মিত হয়েছিল পিরামিড। তবে পোলিশ স্থপতি ওয়েসলো কোজিনস্কির ধারণাটা একটু ভিন্ন। তার মতে, পিরামিডের মূল ক্ষেত্রেই লোক লেগেছিল প্রায় ৩ লাখ। আর অফসাইডে প্রয়োজন পড়েছিল আরো ৬০ হাজার মানুষের। অন্যদিকে বিশিষ্ট গণিতবিদ কুর্ট মেন্ডেলসনের ধারণা এই দুই জনের ধারণার চেয়ে আরো একটু ভিন্ন। তার ধারণা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০ হাজার লোকের ১০ বছর সময় লেগেছিল পিরামিড নির্মাণের কাজে। বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ মার্ক লেহনারের মতে, পিরামিড নির্মাণের কাজে দাসদের নিয়োগ করা হয়নি বরং মিসরীয়রাই এটি নির্মাণের জন্য শ্রম দেয়। তিনি তার গবেষণায় পিরামিডের পাশে শ্রমিকদের থাকার একটা জায়গাও খুঁজে পেয়েছেন। পিরামিড নির্মাণের জন্য বিপুল সংখ্যক পাথরের প্রয়োজন পড়েছিল। সর্ববৃহৎ পিরামিড অর্থাৎ খুফুর পিরামিডটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজন পড়েছিল প্রায় ২-২.৮ মিলিয়ন পাথরের ব্লক। এর মধ্যে কোনো কোনো পাথরের ওজন ছিল কয়েক টন। ধারণা করা হয়, মিসরীয়রা পিরামিড তৈরির আগে এর নকশা এবং ছোট একটি মডেল তৈরি করে নিয়েছিল এবং তারপর সেই নকশা বা মডেল অনুযায়ী নির্মাণ করা হয় পিরামিড।

এত ভারী পাথর উপরে টেনে তুলে কিভাবে পিরামিড নির্মাণ করা হয়, সেটি ভাবলে অবাক হতেই হয়। অধিকাংশের ধারণা, ব্লকগুলোকে ঢালু পথে উপরে টেনে তুলে নির্মাণ করা হয় পিরামিড। আবার হেরোডেটাস এ সম্পর্কে বলেছেন, পিরামিড নির্মাণ করা হয়েছিল সিঁড়ির মতো করে। অনেকটা স্টেডিয়ামের সিঁড়ির মতো ক্রমশ উঁচু এবং সমান্তরালভাবে। প্রথম ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরে পাথর এবং বিভিন্ন উপাদান টেনে তার উপরে ওঠানো হতো এবং তারপর দ্বিতীয় ধাপ নির্মাণের কাজে হাত দেওয়া হতো। আর এভাবেই ধাপে ধাপে নির্মাণ করা হয় পিরামিড। আবার অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, পিরামিড হচ্ছে বহির্জাগতিক কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর তৈরি। তারাই এসে নির্মাণ করে গেছে এই পিরামিড। কিন্তু সে যুক্তি ধোপে টিকেনি। সত্য হলো_ পিরামিড আমাদের এই পৃথিবীর মানুষের হাতেই তৈরি, তারাই বছরের পর বছর পরিশ্রম করে নির্মাণ করেছে বিশালাকৃতির এসব পিরামিড।

এক সময় প্রায় ৪ হাজার ৪০০ বছর ধরে খুফুর পিরামিড পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থাপত্যকর্ম ছিল। ১৮৮৯ সালে আইফেল টাওয়ার নির্মিত হলে এটি তার গৌরব হারায়। খুফুর পিরামিডের পাথরের গায়ে মূল্যবান লাইমস্টোন প্লাস্টার করা ছিল। পরে অন্য পিরামিডগুলো নির্মাণের সময়ে রাজারা এখান থেকে লাইমস্টোন নিয়ে নিজের সমাধি সৌধে লাগাতে থাকে। বিশ্বখ্যাত এই পিরামিডটিতে তিনটি কক্ষ রয়েছে। আর এই কক্ষগুলোতে ঢোকার জন্য পেরোতে হতো অনেকগুলো গোলক ধাঁধা। এটি তৈরি করা হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০০ বছর আগে। এর উচ্চতা প্রায় ৪৮১ ফুট। এটি ৭৫৫ বর্গফুট জমির উপর স্থাপিত। পিরামিডটি তৈরি করা হয় বিশাল বিশাল পাথর খণ্ড দিয়ে পাথর খণ্ডগুলোর একেকটির ওজন ছিল প্রায় ৬০ টন, আর দৈর্ঘ্য ছিল ৩০ থেকে ৪০ ফুটের মতো। এগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল দূর-দূরান্তের পাহাড় থেকে। পাথরের সঙ্গে পাথর জোড়া দিয়ে এমনভাবে পিরামিড তৈরি করা হতো যে, একটি পাথর থেকে আরেকটি পাথরের মাঝের অংশে একচুলও ফাঁক থাকত না। পিরামিড তৈরিতে যত পাথর ব্যবহার হয়েছে, ৬ ফুট উঁচু ও ৩ ফুট চওড়া করে পাশাপাশি বসালে সে দেয়াল লম্বায় ৫০ মাইল ছাড়িয়ে যাবে! গড়ে ৯ টনেরও বেশি ওজনের পাথর একটার পর একটা সাজিয়ে বানানো পিরামিড তাই বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের বিস্ময় আর আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু। এক সময় খুফুর পিরামিডের শীর্ষে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও এখন আর দেওয়া হয় না। কারণ এতে পর্যটক এবং পিরামিড দুটোরই ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ADs by Techtunes tAds

এখন পর্যন্ত সমগ্র মিসরে প্রায় ১৮০টি পিরামিডের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫টি এখনো টিকে আছে। কিন্তু কায়রো থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে গিজা এলাকায় অবস্থিত পিরামিডই ভুবনবিখ্যাত। উচ্চতা আর বিশালত্বের কারণে গিজা ও কায়রো ছেড়ে অনেক দূরে চলে গেলেও চোখে পড়ে তিনটি পিরামিড। মজার ব্যাপার হলো চট করে এসব পিরামিডের উচ্চতা সম্পর্কে ধারণা করা খুবই দূরূহ। এমনকি কাছাকাছি এসেও বোঝা যায় না_ এগুলো প্রায় ৫০০ ফুট উঁচু!

পিরামিডকে অবস্থানগতভাবে বলা হয় ভূমির মাঝে এবং সীমান্তের উপাসনাবেদী। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে পারে একই সঙ্গে মাঝে এবং সীমান্তে এর অবস্থান হয় কিভাবে। গ্রেট পিরামিডের অবস্থান মিসরের গিজায়। আরবি 'গিজা' শব্দের অর্থ 'সীমান্ত'। নীল নদের সৃষ্ট ব-দ্বীপে এটির অবস্থান। এটি উচ্চতম এবং নিম্নতম মিসরের সীমান্ত। এ কারণে মানুষের তৈরি অন্য যেকোনো স্থাপত্যের চেয়ে অবস্থানগতভাবে পিরামিড গুরুত্বপূর্ণ। পিরামিডের অবস্থান যে ব-দ্বীপে সেই ব-দ্বীপটির অবস্থান আবার গাণিতিকভাবে মিসরের মাঝখানে। তাই গ্রেট পিরামিড গিজাকে অবস্থানগতভাবে বলা হয় মাঝে এবং সীমান্তে।

মিসরের বিখ্যাত পিরামিডগুলোর একটি স্ফিংস। খুফু নির্মিত গিজার সর্বোচ্চ পিরামিডটির আয়ত্তের মাঝেই এটির অবস্থান। এর বিপরীতেই রয়েছে খাফরে পিরামিড। পূর্ব দিকে মুখ করা এ স্থাপনাটিকে দেখলে মনে হবে এক বিশাল সিংহ মানব সামনে পা ছড়িয়ে বসে রয়েছে। স্ফিংস এর নিচের অংশ দেখতে সিংহের মতো এবং উপরের অংশ বা মাথা তৈরি করা হয়েছে মানব নারীর চেহারা দিয়ে। এটি নির্মাণ করতে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়েছে। স্ফিংস ৫৭ মিটার (১৮৫ ফুট) লম্বা এবং প্রশস্ত ৬ মিটার (২০ ফুট)। এর উচ্চতা ২০ মিটার (৬৫ ফুট)। দুই পা ছড়িয়ে নখর বিশিষ্ট থাবা মেলে রাখা এ সিংহ মানবীর মূর্তিটির গভীর অভ্যন্তরে রয়েছে মন্দির। প্রবেশ করতে হয় মেলে রাখা দুই পায়ের মাঝ দিয়ে। তবে স্ফিংসের নাক এখন আর অক্ষত অবস্থায় নেই। ধারণা করা হয় নেপোলিয়নের সৈন্য দ্বারা আক্রান্ত হয়ে নাক হারা হয়েছে সিংহমানবী। মিসরের আরেকটি বিখ্যাত পিরামিড হচ্ছে 'স্টেপ পিরামিড অব ডিজুজার'। ডিজুজার ছিলেন ফারাও খুফুর দাদা। স্টেপ পিরামিডটি তৈরি করেন তিনি এবং তার মমি-ই উদ্ধার করা হয় এ পিরামিড থেকে। পিরামিড ডিজুজার মূলত ৬টি ধাপ বিশিষ্ট। একবারে খাড়া হয়ে এটি উঠে যায়নি। এ কারণেই একে স্টেপ পিরামিড বলা হয়। এর অবস্থান মিসরের সাক্কারাতে। ফারাও ডিজুজার এটি নির্মাণ করেন ২৬৩০ খ্রিস্টপূর্বে। এর উচ্চতা ২০৪ ফুট (৬২ মিটার)। তখনকার সময় এটিই ছিল পৃথিবীর বৃহৎ স্থাপনা। ডিজুজারের মমি চ্যাম্বারটি মাটির নিচে। সেখানে পেঁৗছতে হলে পাড়ি দিতে হয় একটি সুড়ঙ্গের জটিল পথ।

ফারাও নেফরুর তিনটি পিরামিডও দারুণ বিখ্যাত। নেফরু ছিলেন ফারাও ডিজুজারের ছেলে এবং ফারাও খুফুর বাবা। তিনি রেড পিরামিড, বেল্ট পিরামিড এবং মাইদুস পিরামিড নির্মাণ করেছিলেন। এ তিনটি পিরামিড থেকেই তিনটি মমি পাওয়া গেছে। এগুলোর মাঝে কোনোটি ফারাও নেফরুর, তা আলাদা করা যায়নি। কেউ মনে করেন রেড পিরামিড থেকে প্রাপ্ত মমিটিই নেফরুর, আবার কেউ বলেন বেল্ট পিরামিড থেকে প্রাপ্ত মমিটিই তার। রেড পিরামিড নির্মিত হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০তে। মিসরের দুসুর-এ অবস্থিত এ স্থাপনাটির উচ্চতা ৩৪১ ফুট (১০৪ মিটার)। নেফরু জীবদ্দশায় এটি নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেননি। তার পুত্র খুফু অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন।

পিরামিড ও তার নির্মাণশৈলী নিয়ে যুগ যুগ ধরে অনেক জল্পনা-কল্পনা হয়েছে। পিরামিডের ভিতরের দেয়ালে আঁকা নানা রকমের ছবি, চিত্রলিপিতে লেখা ধর্মসংগীত আর দেয়ালে খোদাই করা প্রাচীন লিপি উদ্ধার করে এ সম্পর্কে সঠিক খবর জানার চেষ্টা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এরপরও নিশ্চিত হওয়া যায়নি- ঠিক কী কৌশলে তখনকার দিনে সুউচ্চ পিরামিডগুলো তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল। এ নিয়ে অনেকগুলো ধারণার প্রচলন রয়েছে। কারো কারো মতে, নির্মাণাধীন পিরামিডের এক পাশ থেকে মাটি বা পাথরের ঢাল তৈরি করে তার ওপর দিয়ে ভারী পাথর টেনে টেনে তুলে পিরামিড বানানো হয়েছে। কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞই এ মত প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মত-পিরামিড যত উঁচু হবে, ঢাল তত প্রশস্ত করতে হবে। এভাবে পিরামিডের চূড়া পর্যন্ত পৌঁছতে ১৩ মাইল লম্বা ঢাল বানাতে হবে, যা অসম্ভব। আবার আরেক মতানুসারে, পিরামিড বানানো হয়েছে ধাপে ধাপে চারপাশ দিয়ে ছোট ছোট ঢাল বানিয়ে। অপর একটি মতে, পিরামিডের চারপাশ মাটি দিয়ে ভরাট করে নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছে। পরে মাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বলা বাহুল্য সবকিছুই ধারণা মাত্র। এর প্রকৃত রহস্য অজানা। জানা যায়নি মমি তৈরির রহস্যও। তবে এটা অনুমান করা যায় যে, পিরামিড তৈরির আগে থেকেই মমি তৈরি শিখেছিল মিসরীয়রা। ফারাও রাজবংশের রাজাদের মমি সমাধিস্থ করা হতো পিরামিডের ভিতর। মৃতদেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণে রাখার জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে মমি বানানো হতো। এ কাজে তারা বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থও ব্যবহার করত। আধুনিক বিজ্ঞানীরা এখনো এ রহস্যের কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি। তবে কিছু বিষয় ঠিকই অনুমান করা গেছে। বিশ্বজুড়ে মিসরীয় মমি বিখ্যাত হলেও চীন, দক্ষিণ আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মমি খুঁজে পাওয়া গেছে। মমি হলো-কোনো ব্যক্তি বা পশু-পাখির মৃত্যুর পর তার সংরক্ষিত মরদেহ। মানুষ মারা যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে লাশ রাখলে তাতে ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু আক্রমণ করে। নরম চামড়া নষ্ট করে দেয়। কোনো মরদেহকে মমি করার জন্য সবার আগে সেটিকে ব্যাকটেরিয়ামুক্ত রাখা প্রয়োজন। সাধারণত পানির উপস্থিতিতেই ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয়। সে কারণে মমি করার জন্য মরদেহকে দ্রুত পানিমুক্ত করা হতো যাতে সেখানে ব্যাকটেরিয়া ভিড়তে না পারে। সেটা শুকিয়ে নাকি কেমিক্যাল ব্যবহার করা হতো এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হয়, প্রাচীন মিসরীয়রা মরদেহে এক ধরনের কেমিক্যাল দিয়ে সেটি রোদে শুকাত। এছাড়া ধোঁয়ার মাধ্যমেও পানি শুকিয়ে নিত। এ কাজে তারা বিশেষ ধরনের সুগন্ধিও ব্যবহার করত। মিসরীয়দের বিশ্বাস ছিল, তারা মারা যাওয়ার পর যদি তাদের লাশ মমিতে পরিণত করা হয়, তাহলে পরবর্তী জীবনে শান্তি হবে। আর সেজন্য নিজেকে মমিতে রূপান্তরের ব্যাপারে আগ্রহী হয়েই তারা ক্ষান্ত হতো না, বরং চাইত মৃত্যুর পরও ধন-সম্পদের মাঝে ডুবে থাকার মতো নিরাপদ আশ্রয়। এসব কারণেই মমি প্রক্রিয়াকরণ ছিল ব্যয়বহুল। এরকম সাধ্য-সামর্থ্যও সবার ছিল না। তাই ফারাও রাজা, রানী ও তাদের উচ্চপদস্থ দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের মমি প্রক্রিয়া এবং সমাধিস্থ করা হতো জাঁকজমকভাবে।

মমি তৈরি করার পদ্ধতিকে মোটামুটি দীর্ঘমেয়াদি বলা চলে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুগন্ধি কেমিক্যাল দিয়ে একটি দেহ মমি করতে প্রায় ৭০-৮০ দিন লেগে যেত। প্রক্রিয়াটি বেশ কিছু ধাপে সম্পন্ন করা হতো। প্রথমে মরদেহকে ভালোভাবে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করা হতো। দ্বিতীয় ধাপে দেহের বাম দিকে লম্বালম্বিভাবে চেরা হতো। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নাড়ি-ভুঁড়িগুলো বের করে ফেলে দেওয়া হতো। থাকত শুধু চামড়া আর হাড়গোড়। নাকের ভিতর দিয়ে হুক ঢুকিয়ে মাথার মগজ বের করে ফেলা হতো। এরপর সেটি যত্নসহকারে ব্যাকটেরিয়ারোধক স্থানে শুকানো হতো। পরবর্তীতে দেহের প্রতিটি অঙ্গ আলাদাভাবে গুছিয়ে সরু ফালির মাধ্যমে সোজা করে রাখা হতো। সরু ফালিগুলো লাশের অবয়ব ঠিক রাখার কাজ করত। এরপর এগুলোকে একটি ধারক বা জারে রাখা হতো। মমি করার জন্য চার ধরনের কেনোপিক জার ছিল। এগুলো হলো-কেবিসেনুয়েফ, দুয়ামুটেফ, হেপি এবং ইমসেটি। কেবিসেনুয়েফের উপরে অর্থাৎ মাথার অংশ ছিল বাজপাখি আকৃতির, দুয়ামুটেফ ছিল শিয়ালের মতো, হেপি বেবুনাকৃতির এবং ইমসেটি মানবাকৃতির। মরদেহ কেনোপিক জারে কিছুদিন রাখার পর সুগন্ধি কেমিক্যাল লাগানোর জন্য নির্দিস্ট স্থানে নেওয়া হতো। সেখানে দেহটাকে কাপড় জাতীয় সরু ফালি দিয়ে ভালোভাবে ব্যান্ডেজ করার কাজ করা হতো। ব্যান্ডেজের অনেক ভাঁজ দেওয়া হতো। এসব ভাঁজের ফাঁকে ফাঁকে সুগন্ধি তো থাকতই, পাশাপাশি স্বর্ণ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হতো। এর উদ্দেশ্য ছিল দেহ অক্ষত রাখা। শরীরের প্রতিটি আঙ্গুলে লাগানো হতো স্বর্ণের ক্যাপ। স্বর্ণ, সুগন্ধি এবং ব্যান্ডেজ করার পর লাশ দিন কয়েক সুরক্ষিতভাবে রেখে দেওয়া হতো। অন্ত্যেস্টিক্রিয়ার সময় গড়িয়ে এলে কেনোপিক জারের ভিতর রাখা দেহকে স্নেডের ওপর রেখে তা টেনে নেওয়া হতো পিরামিড বা এর জন্য নির্বাচিত সৌধে। সেখানে লোকজন জড়ো হয়ে কান্নাকাটি করে ধর্মীয় যাগযজ্ঞের মাধ্যমে বিদায় জানাত মরদেহকে।

ADs by Techtunes tAds

এ পদ্ধতিতে মমিকরণকে মিসরীয়রা মনে করত মুখ্য লাভের উপায়। তাই এর চাহিদা ছিল ব্যাপক এবং কিছু নির্দিষ্ট লোক এ প্রক্রিয়াকরণে সবসময় ব্যস্ত থাকত। মানুষ যেমন মারা যেত তেমনি মমিও করা হতো প্রচুর। তিন হাজার বছরে ৭০ মিলিয়নের মতো মমি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তাহলে প্রশ্ন উঠে এতসব মমি গেল কোথায়? এর পিছনে দায়ী মানুষের সম্পদের লোভ। বিভিন্ন পিরামিড ও সমাধিসৌধে ঘুরঘুর করত রত্নলোভীরা। তারা সৌধগুলোতে সংরক্ষিত রত্ন লুট করার পাশাপাশি মমির দেহের ব্যান্ডেজ উল্টেপাল্টেও খোঁজ করত স্বর্ণ। হাতের আঙ্গুলে মোড়ানো স্বর্ণও লুট করে নিয়ে যেত। পরবর্তীতে লোপাট হয়ে যাওয়া মমি চ্যাম্বারগুলোর মমি পচে যেতে লাগল ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে। এভাবেই একসময় নিঃশেষ হয়ে যায় সবকিছু। তার চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় চোরেরা মমির গায়ের ব্যান্ডেজগুলো পর্যন্ত খুলে এনে কাগজ তৈরির কাজে ব্যবহার করত। অনেকে আবার মরদেহকে জ্বালানি হিসেবে। এভাবেই ধ্বংস হয়ে যায় মিলিয়ন মিলিয়ন মমি। কিন্তু ফারাও রাজা ও অভিজাতদের মমি সংরক্ষিত ছিল যেসব জায়গায়, সেগুলো ছিল খুব সুরক্ষিত। সেসব স্থানে পৌছার পথ ছিল জটিল এবং ধাঁধায় ভরা। সে কারণেই হাতেগোনা কয়েকটি মমি অক্ষত রয়ে গেছে। মমি রহস্য আর পিরামিডের কারণে এটি মিসরীয় সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসাবে স্বীকৃত। সেই সঙ্গে পিরামিড পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ও বিস্ময় জাগানিয়া স্থাপত্য হিসাবে আজ অবধি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

"চলুন এবার জানি টাইটানিক এবং এর পরিনতির আসল কারন

সম্পর্কে "

ইতিহাসের সবচেয়ে বিশাল এবং বিলাসবহুল জাহাজ হিসেবে টাইটানিকের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। ১৯১২ সালে জাহাজটি আশ্চর্যজনকভাবে ডুবে গেলেও আজ পর্যন্ত একে ঘিরে মানুষের আগ্রহ এতটুকু কমেনি।

টাইটানিক জাহাজের পূর্ণনাম RMS TITANIC (RMS-Royel Mail Ship)। এটি ছিল ব্রিটিশ শিপিং কোম্পানি হোয়াইট স্টার লাইনের মালিকানাধীন। এটি তৈরি করা হয় ইউনাইটেড কিংডম-এর বেলফাস্টের হারল্যান্ড ওলফ্ শিপইয়ার্ডে। জন পিয়ারপন্ট মরগান নামক একজন আমেরিকান ধনকুবের এবং ইন্টারন্যাশনাল মার্কেন্টাইল মেরিন কোং-এর অর্থায়নে ১৯০৯ সালের ৩১ মার্চ সর্বপ্রথম টাইটানিকের নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং তখনকার প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন (বর্তমান প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন) ডলার ব্যয়ে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় ৩১ মার্চ ১৯১২ সালে। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৮৮২ ফুট দুই ইঞ্চি (প্রায় ২৬৯.১ মিটার) এবং প্রস্থ ছিল প্রায় ৯২ ফিট (২৮ মিটার)। এ জাহাজটির ওজন ছিল প্রায় ৪৬ হাজার ৩২৮ লং টন। পানি থেকে জাহাজটির ডেকের উচ্চতা ছিল ৫৯ ফুট (১৮ মিটার)।

এ জাহাজটি একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৪৭ জন প্যাসেঞ্জার ও ক্রু বহন করতে পারত। ব্যয়বহুল এবং চাকচিক্যের দিক থেকে তখনকার সব জাহাজকেই ছাড়িয়ে গিয়েছিল। টাইটানিকের ফার্স্ট ক্লাস যাত্রীদের জন্য বিলাসবহুল ডাইনিংয়ের ব্যবস্থা ছিল। সেখানে একই সঙ্গে ৫৫০ জন খাবার খেতে পারত। এছাড়াও এর অভ্যন্তরে ছিল সুদৃশ্য সুইমিং পুল, জিমনেসিয়াম, স্কোয়াস খেলার কোট, ব্যয়বহুল তুর্কিস বাথ, ব্যয়বহুল ক্যাফে এবং ফার্স্ট ক্লাস ও সেকেন্ড ক্লাস উভয় যাত্রীদের জন্য আলাদা বিশাল লাইব্রেরি। তখনকার সব আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটেছিল এ জাহাজটিতে। এর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাও ছিল খুবই উন্নত ধরনের। এ জাহাজের ফার্স্ট ক্লাসের জন্য তিনটি এবং সেকেন্ড ক্লাসের জন্য একটিসহ মোট চারটি লিফটের ব্যবস্থা ছিল।

জাহাজের ফার্স্ট ক্লাস যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্যাকেজটিতে আটলান্টিক একবার অতিক্রম করতেই ব্যয় করতে হতো তখনকার প্রায় ৪ হাজার ৩৫০ ডলার (যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৯৫ হাজার ৮৬০ ডলার বা বর্তমান বাংলাদেশি টাকায় ৬৭ লাখ টাকারও বেশি)।

ADs by Techtunes tAds

টাইটানিক প্রায় ৬৪টি লাইফবোট বহন করতে সক্ষম ছিল, যা প্রায় ৪০০০ লোক বহন করতে পারত। কিন্তু টাইটানিক আইনগতভাবে যত লাইফবোট নেওয়া দরকার তার চেয়ে বেশি ২০টি লাইফবোট নিয়ে যাত্রা করেছিল যা টাইটানিকের মোট যাত্রীর ৩৩% বা মাত্র ১ হাজার ১৭৮ জন যাত্রী বহন করতে পারত।

টাইটানিকের ক্যাপ্টেন ছিলেন বিশ্বজুড়ে 'নিরাপদ ক্যাপ্টেন', 'মিলিয়নিয়ার ক্যাপ্টেন' ইত্যাদি বিভিন্ন নামে খ্যাত এবং ১৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ইংল্যান্ডের রাজকীয় কমান্ডার এডওয়ার্ড জন স্মিথ। তার নেতৃত্বে টাইটানিক ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

১৪ এপ্রিল ১৯১২ তারিখ রাতে নিস্তব্ধ সমুদ্রের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রিরও কাছাকাছি নেমে যায়। আকাশ পরিষ্কার থাকলেও চাঁদ দেখা যাচ্ছিল না। সামনে আইসবার্গ (বিশাল ভাসমান বরফখণ্ড) আছে এ সংকেত পেয়ে জাহাজের ক্যাপ্টেন জাহাজের গতি সামান্য দক্ষিণ দিকে ফিরিয়ে দেন। সেদিনই দুপুর এবং বিকেলের দিকে দুটি ভিন্ন ভিন্ন জাহাজ থেকে রেডিওর মাধ্যমে যোগাযোগ করে টাইটানিকের সামনে বড় একটি আইসবার্গ আছে বলে সতর্ক করে দেয় টাইটানিককে। কিন্তু টাইটানিকের রেডিও অপারেটরদের অবহেলার কারণে এই তথ্য টাইটানিকের মূল যোগাযোগ কেন্দ্রে পৌছায়নি। সেদিনই রাত ১১:৪০-এর সময় টাইটানিকের পথ পর্যবেক্ষণকারীরা সরাসরি টাইটানিকের সামনে সেই আইসবার্গটি দেখতে পায় কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। টাইটানিকের ফার্স্ট অফিসার মুর্ডক আকস্মিকভাবে বামে মোড় নেওয়ার অর্ডার দেন এবং জাহাজটিকে সম্পূর্ণ উল্টাদিকে চালনা করতে বা বন্ধ করে দিতে বলেন। তবুও টাইটানিককে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মোড় নিতেই ডানদিকের আইসবার্গের সঙ্গে প্রচণ্ড ঘষা খেয়ে চলতে থাকে টাইটানিক। ফলে টাইটানিকের প্রায় ৯০ মিটার অংশ জুড়ে চিড় দেখা দেয়।

জাহাজটি সর্বোচ্চ চারটি পানিপূর্ণ কম্পার্টমেন্ট নিয়ে ভেসে থাকতে পারত। কিন্তু ৫টি কম্পর্টমেন্ট পানিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এর ওজনের কারণে জাহাজটি আস্তে আস্তে ডুবতে থাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় ক্যাপ্টেন স্মিথ মূল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে আসেন এবং জাহাজটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেন। ১৫ তারিখ মধ্যরাতের দিকে টাইটানিকের লাইফবোটগুলো নামানো শুরু হয়। টাইটানিক বিভিন্ন দিকে জরুরি বিপদ সংকেত পাঠিয়েছিল। যেসব শিপ সাড়া দিয়েছিল তারমধ্যে অন্যতম হলো মাউন্ট ট্যাম্পল, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং টাইটানিকের সহোদর অলিম্পিক। টাইটানিকের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হতে দূরবর্তী একটি জাহজের আলো দেখা যাচ্ছিল যার পরিচয় এখনো রহস্যে ঘেরা।

রাত ০২:০৫-এর দিকে জাহাজের সম্পূর্ণ মাথাই পানির প্রায় কাছাকাছি চলে আসে। ০২:১০-এর দিকে প্রপেলারকে দৃশ্যমান করে দিয়ে জাহাজের পেছনের দিক উপরে উঠতে থাকে। ০২:১৭-এর দিকে জাহাজের সামনের দিকের ডেক পর্যন্ত পানি উঠে যায়। ওই মুহূর্তেই শেষ দুটি লাইফবোট টাইটানিক ছেড়ে যায় বলে এত বিস্তারিত জানা গেছে। জাহাজের পেছনের দিক ধীরে ধীরে আরো উপরের দিকে উঠতে থাকে। এসময় জাহাজের বিদ্যুতিক সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায় এবং চারদিকে অন্ধকার হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই ভারের কারণে টাইটানিকের পেছনের অংশ সামনের অংশ থেকে ভেঙে যায় এবং জাহাজের সম্মুখভাগ সম্পূর্ণরূপে পানির নিচে চলে যায়। বায়ুজনিত কারণে এ অংশটি কিছুক্ষণ ভেসে থাকার পর রাত ০২:২০-এর দিকে ধীরে ধীরে জাহাজের বাকি অংশটিও সমুদ্রের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়। টাইটানিক ত্যাগ করা লাইফবোটগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি লাইফবোট আবার উদ্ধার কাজে ফিরে এসেছিল। দুটি লাইফবোট ৮-৯ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে। ভোর ০৪:১০-এর দিকে কার্পেথিয়া জাহাজটি এসে পৌঁছয় এবং বেঁচে থাকাদের উদ্ধার করা শুরু করে। সকাল ০৮:৩০ মিনিটে জাহাজটি নিউইয়র্কের দিকে রওনা দেয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে খুব অল্পসংখ্যক মানুষই জীবিত ফিরে আসতে পেরেছে। টাইটানিক দুর্ঘটনায় অসংখ্য পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়েছিল। কেবলমাত্র সাউদাম্পটনের প্রায় ১০০০ পরিবার সরাসরিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ADs by Techtunes tAds

১৯১২ সালে ডুবে যাওয়া এ জাহাজটি সাইড স্ক্যান সোনার পদ্ধতিতে ১৯৮৫ সালে পুনরায় আবিষ্কার করা হয়। এর আগে টাইটানিককে পুনরাবিষ্কারের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে প্রায় ১২৪৬৭ ফুট বা ৩৮০০ মিটার নিচে নীরবে সমাহিত হয়ে আছে টাইটানিক, হয়ত থাকবেও চিরদিন।

বিজ্ঞানীরা নানা গবেষণার জন্য এখনো এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। পানি আর বরফের প্রকোপে ডুবন্ত টাইটানিক আস্তে আস্তে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যেই টাইটানিক সাগরবক্ষে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

টাইটানিক সারা বিশ্বে এতটাই পরিচিতি পেয়েছিল যে, এর উপর ভিত্তি করে অসংখ্য প্রতিবেদন চিত্র এবং ছায়াছবি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে জেমস ক্যামেননের 'টাইটানিক' ছবিটি রেকর্ড ২০০ মিলিয়নেরও অধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়। সবাইকে অবাক করে দিয়ে সারা বিশ্বে টাইটানিক প্রায় ১ হাজার ৮৩৫ বিলিয়ন (১৮৩৫ মিলিয়ন) ডলার আয় করে এবং আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ১১টি অস্কারসহ আরো অন্যান্য ৭৬টি পুরস্কার জিতে নেয়। টাইটানিক ডোবার ৮৫ বছর পরও এর প্রতি মানুষের আগ্রহ একটুও কমেনি ববং বহুগুণে বেড়েছে।

অনেকেরই ধারণা ছিল টাইটানিক জাহাজে কোনো অভিশাপ ছিল। এ যুক্তি প্রমাণ করার অন্যতম একটি কারণ হিসেবে তারা দেখিয়েছিল টাইটানিকের নম্বর ৩৯০৯০৪। পানিতে এর প্রতিবিম্বের পাশ পরিবর্তন করলে হয় no pope। এছাড়াও টাইটানিককে ঘিরে আরো অনেক গল্পের প্রচলন রয়েছে। যুগ যুগ ধরে অসংখ্য বিশেষজ্ঞ টাইটানিককে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু এরপরও টাইটানিক চিরকালই রহস্যের আড়ালে রয়ে গেছে।

কোনো দিনও ডুববে না দাবি করেছিল টাইটানিক। কিন্তু ১৯১২ সালে প্রথম বিহারেই ১৫০০ যাত্রী নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যায় বিলাসবহুল টাইটানিক। এরপর শুরু হয় ডুবে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান। প্রচারিত হতে থাকে নানা রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর কাহিনী। শত বছর পার হয়ে গেলেও আজো মানুষ সঠিক কারণ জানে না! অনেকের মধ্যেই এ নিয়ে বিভিন্ন গল্প প্রচলিত রয়েছে। কেউ এর পেছনে কোন না কোন যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ কোনো প্রকার সূত্র ছাড়াই বলছেন টাইটানিক ডোবার পেছনের মনগড়া কাহিনী। ১৯৯৮ সালের ১৯ অক্টোবরে টাইমস জানিয়েছে, এরকমই এক রহস্যময় কাহিনী।

ADs by Techtunes tAds

আমেন এবং আমেন রা

টাইটানিক জাহাজে নাকি ছিল মিসরীয় এক রাজকুমরীর অভিশপ্ত মমি। বলা হয় মমির অভিশাপের কারণেই ভাসমান বরফদ্বীপের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল টাইটানিক।

ল্যুক্সরে (আমেন রা এর সমাধি)

খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকে মারা যান ‘প্রিন্সেস অভ আমেন-রা’। নীলনদের পাশে ল্যুক্সরে তাঁর সৎকার করা হয়। উনিশ শতকের নব্বই শতকের শেষ দিকে চার জন ইংরেজকে ওই রাজকুমারীর মৃতদেহসহ একটি মমি কেনার জন্য আহ্বান জানানো হয়। উৎসাহী ইংরেজদের একজন বেশ কয়েক হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে বিক্রেতার কাছ থেকে মমিটি কেনেন এবং সেটিকে নিয়ে আসেন তাদের হোটেলে। কয়েক ঘন্টা পর মরুভূমির দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায় ওই ক্রেতা ব্যক্তিকে। তিনি আর কখনও ফিরে আসেন নি।পরেরদিন আরেকজন ইংরেজ এক মিশরীয় ভৃত্য কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হন। এমন ভাবে আহত হন যে তার একটি হাত কেটে ফেলতে হয়।

আমেন রা

তৃতীয় ব্যক্তি দেশে ফিরে আসেন, কিন্তু দেখেন যে, ব্যাংকে গচ্ছিত সমস্ত অর্থ লোপাট হয়ে গেছে অন্য কারও জালিয়াতির মাধ্যমে।

চতুর্থ ব্যাক্তি পড়েন প্রচন্ড অসুখে। চাকুরী চলে যায় তার। শেষমেশ তিনি রাস্তায় দিয়াশলাই বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ADs by Techtunes tAds

এদিকে অনেক ঝামেলার পর মমিটি পৌঁছে যায় ইংল্যান্ডে।

কিন্তু তবু অভিশপ্ত অধ্যায়ের শেষ হয়নি। ওই কফিনের সাথে সর্ম্পকযুক্ত যে কোন মানুষের ভাগ্যে জুটেছিল দূর্ঘটনা বা মৃত্যু। এমনকী ব্রিটিশ মিউজিয়ামে প্রদর্শনের জন্য সংরক্ষিত মমিটির একজন দর্শনার্থীর ভাগ্যেও জুটে চরম দুর্দশা। ওই দর্শনার্থী মহিলা চরম তাচ্ছিল্যভরে একটি ময়লা পরিষ্কার করার কাপড় দিয়ে মুছেছিলেন কফিনে অঙ্কিত রাজকুমারীর মুখচ্ছবি। কয়েকদিন পর তার সন্তান মারা যায় হাম রোগে।

মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ মমিটিকে বেসমেন্টে সরিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এক সপ্তাহের মাঝেই মমি সরানোর কাজে অংশগ্রহনকারী একজন প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই কাজের তত্বাবধায়ককে তার অফিসের ডেস্কের উপর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্বভাবতই ব্যাপারটি সংবাদপত্রের নজরে আসে। একজন ফটো সাংবাদিক ছবি তুলে ডেভেলপ করে দেখতে পান যে, রাজকুমারীর মুখের বদলে এক বীভৎস চেহারা। জানা যায় যে ওই সাংবাদিক গুলিতে আত্মহত্যা করেন।

প্রায় দশ বছর ধরে ঘটতে থাকে এইসব ঘটনা-উপঘটনা। চূড়ান্তভাবে মমিটিকে বিক্রি করা হয় একজন সৌখিন সংগ্রাহকের কাছে। বিচিত্র রকমের দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির পর মমিটিকে তিনি নির্বাসন দেন নিজ বাড়ীর চিলেকোঠায়। অভিশপ্ত ঘটনার পরও একজন মার্কিন প্রত্নতত্ববিদ কিনে নেন মিশরীয় রাজকুমারীর মমি। নিউইর্য়কগামী একটি জাহাজে বুক করেন ওই মমিটি, নিজেও ওঠেন ওই জাহাজে। বলুন তো জাহাজটির নাম কি?

সেই জাহাজটির নাম ‘টাইটানিক'

আমার আগের টিউন গুলি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

ADs by Techtunes tAds

তথ্যসুত্রঃ- ইন্টারনেট (সংকলিত)

ADs by Techtunes tAds
Level 0

আমি শুভ্র আকাশ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৌশল নেটওয়ার্ক - টেকটিউনস এ আমি 8 বছর 7 মাস যাবৎ যুক্ত আছি। টেকটিউনস আমি এ পর্যন্ত 78 টি টিউন ও 1927 টি টিউমেন্ট করেছি। টেকটিউনসে আমার 1 ফলোয়ার আছে এবং আমি টেকটিউনসে 0 টিউনারকে ফলো করি।


আরও টিউনস


টিউনারের আরও টিউনস


টিউমেন্টস

খুব ভালো পোস্ট, ভালো লাগলো পড়ে। তবে আমার মনে হচ্ছে লেখাটি আমি রহস্য পত্রিকায় পড়েছি, লেখাটি কি ওই ম্যাগাজিন থেকে নেয়া?
    ভাল লাগল। ধন্যবাদ।
    ঠিক ধরেছেন তবে অন্যান্য তথ্য বিভিন্য ব্লগ থেকে সংকলন করেছি,মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ
    বাহ! একজন রহস্য পত্রিকার পাঠক পাওয়া গেলো। আমি নিয়মিত পড়ি, আপনি? বন্ধুত্য করবেন? রাজি থাকলে মেইল করে জানিয়েন।
    আমি রহস্য পত্রিকার পাঠক কিন্তু নিয়মিত নয়।বন্ধুত্য করাই যায়,আপত্তি থাকবে কেন? আমাকে মেইল করতে পারেন joychowdhury50@yahoo.com এই ঠিকানায়, আর ফেসবুক নিক "shubhro akash"
Level 0
অনেক্ষণ ধরে পুরোটা পড়লাম। জানা ছিল তবে আবার নতুন করে জানলাম। ভাল হয়েছে ধন্যবাদ।
অনেক কিছুই অজানা তথ্য জানালেন ভাই, এ ধরনের টিউন যত বড়ই হোক না কেন পড়তেও ভাল লাগে । ধন্যবাদ অনেক অনেক ধন্যবাদ ।
ভাই ধন্যবাদ দেবনা...........কিন দিব?.............১০০টা ভারচুয়াল ফিক্সেল। এবার খুশি?
অসাধারন একটা টিউন করেছেন। ছবিগুলা এডিট করে বড় করে দিন। দেখতে ভাল লাগবে। আশা করি নির্বাচিত হবে টিউনটি। ধন্যবাদ আকাশ ভাই।
অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ হাসান ভাই, ছবি ইচ্ছা করেই ছোট করে দিয়েছি। বড় ছবি দিলে টিউন লোড হতে সময় বেশি লাগে আর বেশি ব্যান্ডউইথ খরচ হয়,আবার ম্যাক্সিমাম পাঠক তো লিমিটেড ইন্টারনেট ইউজ করে,তাই সবার কথা চিন্তা করে মোটামটি সাইজের ছবি আপলোড করেছি যাতে টিউন তাড়াতাড়ি লোড হয়।
ধন্যবাদ আকাশ ভাই অনেক কিছু জানলাম
অনেক দিন পর খুব মনযোগ নিয়ে টিউনটি পড়লাম, অসাধারন একটি টিউন এবং অনেক তথ্য বহুল, তবে আমেনা রা'র কাহিনীটি সত্যি কাল্পনিক ও অবাস্তবও বটে। অনেক দিন টেকটিউন্সে নতুন কোন টিউন নির্বাচিত হয় নাই তাই এই টিউনটা বিবেচনায় আসতে পারে, অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর একটি টিউন উপহার দেয়ার জন্য।
    অসংখ্য ধন্যবাদ আতাউর ভাই, আশা করি বরাবরের মত আমার সামনের টিউন গুলোতে আপনার পুর্ন সহযোগীতা পাব।
খুব ভাল পোষ্ট। অনেক ধন্যবাদ
খুবই ভাল এবং মানসম্মত টিউন । অসংখ্য ধন্যবাদ আপনােক ।
ওহ হো হো হা হা হা হা হে হেহ এহ তারা আসতেছে আপনাকে ধরতে....সাবধান থাকবেন।
অনেকদিন পর একটা কোয়ালিটি টিউন পরলাম .... হ্যাটস অফ ..... আশা করি এমন নিয়মিত পাব ..... কি বলেন ভাই?
    এই প্রথম আমার কোন টিউনে আপনার মন্তব্য পেলাম,তাই অনেক অনেক ভাল লাগছে।শুধু ধন্যবাদ দিয়ে মনের খুশিটাকে সম্পুর্নরূপে প্রকাশ করতে পারব না। এতটুকু বলতে পারি,যে আপনারা যদি সবসময় আমার পাশে থাকেন তাহলে আমাকে নিয়মিত পাবেন।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে কষ্ট করে লেখারক জন্য।
দারুনননননননননননননননননন ভাই।জানা অজানা আনেক তথ্য জানা গেল। আশা করি এমন তথ্যবহুল টিউন আরো উপহার দিবেন। ধন্যবাদ তথ্যবহুল টিউন-এর জন্য।
    অনেক ধন্যবাদ ভাই, আপনারা পাশে থাকলে, আপনাদের আরো এমন অনেক তথ্যবহুল টিউন উপহার দিতে পারবো
Level 0
অনেক ইন্টারেস্টিং ও তথ্যবহুল টিউন। -ধন্যবাদ
Level 0
অনেক ইন্টারেস্টিং ও তথ্যবহুল টিউন। -ধন্যবাদ
    Level 0
    ভাইয়া আমার কিছু High Definition Video Song লাগবে । Can You Help Me.....?
Level 0
পেপার থেকে নেয়া ।। :)
    শুধু পেপার নয়,বিভিন্ন ব্লগ থেকে তথ্য সংকলন করা।অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
Level 0
দারুণ হয়েছে লিখাটা এধরণের লিখা আমার খুব পছন্দ। ধন্যবাদ
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি লিখা উপহার দেয়ার জন্য। চালিয়ে যান সাথে আছি।
আমার আশার ও বাইরের টিউন হয়েছে আকাশ ভাই।এক কথায় অসীম সুন্দর।যার কোনো সীমা হয় না।আমি অনেক দিন ধরে টিউন না করলেও টেকটিউন্সে প্রায়ই আসতাম।এতগুলো দিনের মধ্যে আজ এই টিউনটি আমার সবচেয়ে ভালো লাগলো।আসলে কেবল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে পড়ে থাকা ঠিক নয়।জানতে হবে এর আদি কথা।এমন টিউন আমরা টেকটিউন্সে যেন বার বার ফিয়ে পাই ।আসা করি যেহুত টিউনটি স্টিকি করা হয়েছে তাই তা নির্বাচিত হতেও দেরী হবে না।ধন্যবাদ আবার ও।
    অনেক অনেক অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ সজীব ভাই,আমার টিউনে আপনার প্রথম মন্তব্য পেয়ে খুব ভালো লাগছে
টিউনটি পড়ে খুবেই ভালো লাগলো। বিষয়গুলি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
    আমারও খুব ভাল লাগলো আপনার মন্তব্য পড়ে।অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
একদম ফাটাফাটি হয়েছে। আপনার এই টু ইন ওয়ান টিউন আমার খুব ভাল লেগেছে। কয়েকদিন ধরে কমেন্ট করার জন্য মন উশখুশ করছে, কিন্তু ল্যাপটপটা অন্য সাথে ছিলনা বলে কমেন্ট করতে পারিনি। আমার নতুন মোবাইলটায় বাংলাও লিখা যায়না।আরেকটা কথা, আপনি আমেন-রা শিরোনামে যে ছবিটি দেইয়েছেন সেটা আমেন রা না। এটা আসলে মঙ্গলগ্রহের একটা রহস্যের ছবি।
    আপনাকেও ফাটাফাটি ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।আমি আমেন রা এর ছবি গুগলে সার্চ দিয়েছিলাম,এই ছবিটা গুগল থেকেই নেওয়া।দেখি চেঞ্জ করা যায় কিনা
Level 0
bro onek valo laglo
অনেক দিন পর দারুণ একটি ভালো টিউন পেলাম। ভালো থাকবেন।
    অনেক অনেক ধন্যবাদ টিউটো ভাই, টপ টিউনার দের মন্তব্য পেয়ে পেয়ে অনেক ভাল লাগছে
আকাশ ভাই, কুর্ণিশ গ্রহন করবেন, ফিরাবেন না যেন ! সেইভ করে রাখতেছি। প্রিন্ট করে পড়ব। এই জিনিস পিসিতে পড়ে মজা পাওয়া যাবেনা। -- এরকম টিউনের জন্যেই টেকটিউনস সেরা থাকবে, সবসময়। ++ ++++ +++++ ধন্যবাদ
    আপনাকে কোন ভাষায় যে ধন্যবাদ দিব তা জানা নাই, তবুও আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ গ্রহন করুন
Level 0
খাইসে !!! এসমস্ত ইন্টারনেটে মানায় না, একখন বইয়ের আকারে প্রকাশ পেলে ভাল লাগত...। এককথায় অনবদ্য................।
Level 0
কোঠিন Tune. 5 star :)
ভালো টিউন
দারুনননননননননননননননননন ভাই।জানা অজানা আনেক তথ্য জানা গেল। আশা করি এমন তথ্যবহুল টিউন আরো উপহার দিবেন। ধন্যবাদ তথ্যবহুল টিউন-এর জন্য।
    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মিফতাহ ভাই,ভবিষ্যতে আরো এমন তথ্যবহুল টিউন অবশ্যই উপহার দিতে চেস্টা করব।
আপনি টিউন করার পর পরই পরেছিলাম, কিন্তু সময়ের অভাবে মন্তব্য করতে পারিনি। এক চুমুকে অমৃত শরবতের মত দুই বার শেষ করে ফেলেছি, জটিল বললে ভুল হবে তার চাইতে বেশি কিছু...............
    অনেক অনেক ধন্যবাদ সাইফুর ভাই,আপনার মন্তব্য পেয়ে খুব ভাল লাগছে।
অসাধারণ টিউন। এধরনের প্রাগঐতিহাসিক তথ্য বহুল টি উপহার দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভাইয়া আমি কিছু দিন আগে কালের কন্ঠ পত্রিকায় একটি খবর দেখলাম এতে টাইটানিক এর ভিন্ন কারন দেওয়া আছে। এতে বলা হয়েছে ভুল বোঝার কারনেই দুরঘটনা হয়েছিল।বিস্তারিত-http://bit.ly/9nDRke ।
    ভাই ওটা জাগতিক ব্যখ্যা,আর এটা সুপার ন্যাচারাল।মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
অসাধারন জটিল চালিয়ে যান...............
Sundor Tune.
montobbo bihin ekta likha "osavabik, jottttil"
Vai apnake onek donnobad arom akta sondor tune deour jonno. ami onek din jabot ay gotonata janar chasta korsilam. agin thank you@ god bless you.
Level 0
রহস্যমূলক সব লেখ আমার ভালো লাগে।ধন্যবাদ আকাশ ভাই।
ভাইরে......।।কি যে লিখলেন।পড়তে পড়তে টায়ার্ড হয়ে গেসি।আপনার লেখা নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাইনা। শুধু একটু মনে রাখবেন যে আমি আপনার খুব বড় ধরনের ফ্যান।((এই ফ্যান কিন্তু ঘোরেনা।))
Level 0
ধন্যবাদ ভাই , কাহিনী টা অনেক আগে থেকেই জানি , তারপর ও অনেক ধইন্যা :D
খুব সুন্দর হয়েছে। চালিয়ে যান। :)
ভাইরে……।।কি যে লিখলেন।পড়তে পড়তে টায়ার্ড হয়ে গেসি। অসাধারণ টিউন। এধরনের প্রাগঐতিহাসিক তথ্য বহুল টি উপহার দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এতগুলো দিনের মধ্যে আজ এই টিউনটি আমার সবচেয়ে ভালো লাগলো. অনেক কিছুই অজানা তথ্য জানালেন ভাই
আমি খুব উচ্ছসিত, আপনার টিউন টি পরে খুব ভাল লাগ্ল আমার । তবে আমার মনে হয় এই জায়গায় একটা ভুল রয়ে গেছে কিনা দেখবেন ,এখানে বেশি নেয়া হয়েছে হবে না কম নেয়া হয়েছে হবে( টাইটানিক প্রায় ৬৪টি লাইফবোট বহন করতে সক্ষম ছিল, যা প্রায় ৪০০০ লোক বহন করতে পারত। কিন্তু টাইটানিক আইনগতভাবে যত লাইফবোট নেওয়া দরকার {তার চেয়ে বেশি ২০টি }লাইফবোট নিয়ে যাত্রা করেছিল যা টাইটানিকের মোট যাত্রীর ৩৩% বা মাত্র ১ হাজার ১৭৮ জন যাত্রী বহন করতে পারত।)