Quantcast

বেসিক ফটোগ্রাফী কোর্স [পর্ব-০৩] :: মোড নিয়ে ভাবনা

1 টিউমেন্টস 552 দেখা প্রিয়
ফটোগ্রাফি
এটি 4 পর্বের বেসিক ফটোগ্রাফী কোর্স চেইন টিউনের 3 তম পর্ব

সবাই ভাল আছেন নিশ্চয়ই। নতুন পর্বে আপনাদের স্বাগতম। কথা হবে আজ মুড নিয়ে। আমার শুরুর বাক্যটা তাই মুড নিয়েই শুরু করলাম। ভাল থাকাটা নিশ্চয়ই ভাল একটা মুড।কেউ যদি খারাপ থাকে তবে সেটা অবশ্যই দু:খজনক মুড। আমার লেখা পড়ে যদি হাসেন তবে জেনে রাখুন আপনি খুশি মুডে আছেন। কথা না বাড়িয়ে চলে যাই আপনার প্রিয়  ক্যামেরার মোডে। ক্যামেরারও আমাদের মত বেশ কিছু মোড আছে। একটু দামী ক্যামেরার একটু বেশি মোড, খানিকটা কম দামের ক্যামেরার একটু কম মোড। বুঝেনইতো ধনী গরিব বলে কথা। আমরা কিন্তু সবার মোড নিয়ে আলোচনা করবো। আর তাই কমন ৪ টি মোড নিয়ে কথা হবে আজকের পর্বে।

মোড আসলে কি?

নিচের ছবিটা লক্ষ্য করুন। এখানে ক্যামেরার একটি নব দেওয়া আছে। এই নবের উপর হিজিবিজি কি সব জানি অক্ষর আছে। Av, Tv, P, Auto, M আরো কত কি। জ্বী হ্যাঁ এইগুলি মোড। ক্যামেরার মোড। নবের পাশে একটি সাদা  অথবা কাল দাগ ওয়ালা একটি চিহ্ন থাকবে। এই চিহ্নের সাথে Av, Tv, P, Auto, M যেটি সমান্তরাল মানে পাশাপাশি থাকবে ক্যামেরা তখন সেই মোডে থাকবে।

ছবি বিশ্লেষন: এখানে দুইটি ডায়ালিং নব দেখানো হল। একটি ক্যাননের আর আরেকটি নাইকনের। পার্থক্য শুধু Tv আর ‍S এর মধ্যে। ক্যানন ক্যামেরার ডায়ালিং নবে Time Value বা Tv দেওয়া থাকে। অন্যদিকে নাইকন ক্যামেরাতে S দিয়ে যেই লাউ সেই কদু বুঝানো হয়।

Aperture Value/Av/A

অ্যাপারচার নামটা কোথায় জানি শুনেছেন। ও হ্যাঁ দ্বিতীয় পর্বে আমরা পড়েছিলাম সাইমুমের সেই ২৫ ওয়াট আর ১০০ ওয়াটের বাতির কথা। যেখানে ২৫ ওয়াট বাল্ব জ্বালালে কম আলো আসে আর ১০০ ওয়াট বাল্ব জ্বালালে বেশি আলো জ্বলতো। অ্যাপারচার ছোট বড় করে ক্যামেরার ল্যান্সে কম বেশি আলো ঢুকানো হত। ক্যামেরার মোড Av টা আসলে Aperture Value (কোন কোন ক্যামেরার নবে Av এর বদলে শুধু A লেখা পাবেন।) অর্থাৎ এই মোডে আপনি শুধু অ্যাপাচারের মান কম বেশি করতে পারবেন। চাইলেও সাটারের সময় নির্ধারণ করে দিতে পারবেননা। জেনে রাখা ভাল এটা কিন্তু প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারদের খুব প্রিয় একটা মোড।

Time Value/Tv/T/S

সাটারস্পীডে আমরা জেনে ছিলাম কত সময় ধরে আলো ঢুকবে। অর্থাৎ সেকেন্ড। যদি ভুলে যান তবে আগের পর্বে ফেরত যান। আচ্ছা সেকেন্ডটা জানি কি? ও হ্যাঁ টাইম বা সময়। ঠিক ধরেছেন। কথা হচ্ছে Time নিয়ে বা Time Value নিয়ে। এই মুডে আপনি শুধু টাইমটা সিলেক্ট করে দিতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার ক্যামেরার সাটার কত সেকেন্ড খুলা থেকে লেন্সের ভিতর আলো প্রবেশ করাবে সেটা শুধু এই মুডে সিলেক্ট করে দিতে পারবেন। এটাও জেনে রাখা দরকার যে এটাও প্রফেশনলান ফট্রোগ্রাফারদের প্রিয় আরেকটা মোড।

জটিল প্রশ্ন?

যদি ক্যামেরার মোড Aperture Value বা Av বা A তে রাখি তবে Time Value বা Tv বা T বা সাটারস্পীড কিভাবে নির্ধারন হবে? অথবা আমরা যদি ক্যামেরার মোড Time Value বা Tv বা T বা সাটারস্পীড সিলেক্ট করি তবে Aperture Value বা Av বা A (আলোর পরিমান) কিভাবে লেন্সে প্রবেশ করবে? চিন্তা করেন। চিন্তা করতে কিন্তু টাকা খরচ হয়না।

M মোড

Manual এর প্রথম অক্ষর M কে নিয়ে এই মোডের জন্ম। বুঝতেই পারছেন এখানে সবকিছু ম্যানুয়ালী সিলেক্ট করে দিতে হবে। কি কি ম্যানুয়ালী সিলেক্ট করে দিতে হবে? হ্যাঁ  Av আর Tv এর মানকে এই মোডে ম্যানুয়ালী সিলেক্ট করে দিতে হবে। বলে রাখা ভাল এটা কিন্তু নবীনদের প্রিয় মোড হওয়া উচিত। ক্যামেরার অপারেশন শেখার জন্য এই মোডের কোন জুড়ি নাই। নিশ্চয়ই আবার বলতে হবেনা Av আর Tv এর মানগুলি কি। যারা নতুন শিখছেন তারা এই মোাডে লেগে থাকুন। এই মোডটাকে ভালবাসুন। যখন একসাথে Av এবং Tv এর মান কন্ট্রোল করতে পারবেন ধরে নিবেন এবার ফটোগ্রাফার হবার পালা।

হয়তো প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হবে। ভুল হবে। হোক না ভুল। যদি ভুল থেকে দারুণ কিছু হয় তবে ক্ষতি কি। সুন্দর ছবি নাইবা তুললেন। আগামীর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করলেন। বন্ধুরা অপবাদ দিক আপনি সুন্দর ছবি তুলতে পারেননা। তাদের অপবাদ মাথায় নিন। লেগে থাকুন। আলোটাকে কন্ট্রোল করতে শিখুন। যখন একটু একটু কন্ট্রোল করতে পারবেন দেখবেন Av আর Tv মোড তখন আপনার জন্য ডাল-ভাত।

Auto এবং P মোড

Automatic থেকে Auto আর Program থেকে P নিয়ে এই মোডগুলোর নামকরণ। কোন কোন ক্যামেরায় শুধু Auto পাবেন সেখানে P নাও থাকতে পারে। আবার কোন কোন ক্যামেরায় শুধু P থাকবে সেখানে কোন Auto থাকবেনা। আবার কোন কোন ক্যামেরায় দুটোই থাকবে। Automatic আর Program মোড দুটোই প্রায় সমান। যারা ক্যামেরার কিছুই জানেনা তাদের জন্য এই দুটো মোড। অর্থাৎ ক্লিক কর আর ছবি তোল। Aperture Value আর Time Value ক্যামেরাই অটেমেটিক সিলেক্ট করে নিবে। কিভাবে নিবে? উত্তরটা নিচেই পাবেন।

জটিল প্রশ্নের উত্তর

প্রতিটি DSLR এ একটি লাইট মিটার থাকে। এই মিটারের কাজ হচ্ছে ক্যামেরার চোখ বা ল্যান্স যেদিকে তাকাবে সেখানের আলোর পরিমান নির্ধারণ করা। অনেকে এটাকে TTL মিটারিং বলেন। TTL মানে হচ্ছে Through the lens।

মিটার যখন সেই বস্তুর উপর থেকে আসা আলোটাকে পরিমাপ করতে পারবে তখন নিশ্চয়ই এটাও বুঝতে পারার কথা যে সেখানে আলো কম নাকি বেশি আছে। যখন দেখবে আলো কম তখন হয় অ্যাপাচারের মান কমিয়ে দিয়ে মুখটা বড় করবে বেশি আলো ঢুকার জন্য নতুবা সাটারস্পীড এর মান বাড়িয়ে দিবে (মান ১ সেকেন্ড থাকলে সেটা ৩০ সেকেন্ড করে দিবে) বেশি সময় সাটার খুলে রেখে যাতে বেশি আলো ঢুকানো যায়। আর হ্যাঁ এই সবকিছু কিন্তু আপনার অগোচরেই হবে।

তো আজ এখানেই সমাপ্ত। আগামী পর্বে আবারো কথা হবে মিটারিং নিয়ে।

টিউনার সৌশল মিডিয়া
Ads by Techtunes - tAds
টিউমেন্টস টিউমেন্ট গুলো

দারুন হয়েছে ভাই , পরের পর্বের অপেক্ষেয় !

You must be logged in to post a Tumment.