Quantcast

পদার্থবিজ্ঞানে এবারের নোবেল প্রাইজ এবং কেন ?

9 টিউমেন্টস 416 দেখা প্রিয়
প্রতিবেদন

nobel_p1

পৃথিবীতে বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি এবং যোগাযোগরে ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে দেয়া দুটি আবিষ্কার ফাইবার অপটিক ক্যাবলের উন্নতি এবং CCD আবিষ্কারের জন্য এবার নোবেল প্রাইজ পেলেন তিনজন বিজ্ঞানী। অর্ধেক চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং এর চার্লস কাও এবং বাকী অর্ধেক নিউ জার্সির মারি হিলের বেল লেবরেটরিজের উইলার্ড বয়েল ও বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি এবং কানাডিয়ান সরকারী ল্যাবরেটরীগুলোর উপদেষ্টা জর্জ স্মিথ লাভ করেন।

nobewl_2
(চিত্রে বাম দিকথেকে প্রথমে চার্লস কাও, তারপর উইলার্ড বয়েল এবং জর্জ স্মিথ)

১৯৬৯ সালে উইলার্ড বয়েল ও র্জজ স্মিথ নামক দুজন বিজ্ঞানী এমন একধরনের চিপ আবিষ্কার করেন যা আলোকে বৈদ্যুতিক সিগনালে রুপান্তর করতে পারে। তারা তখন নতুন আবিষ্কৃত একধরনের মেটাল অক্সাইডের সেমিকন্ডাকটর ব্যবহার করেছিলেন যা পোটনকে ইলেক্ট্রনের প্রবাহতে রূপান্তর করতে পারতো এবং তা অপর প্রান্তে অবস্থিত চিপের প্রান্ত হতে আবার পড়া এবং পুনরায় ছবিতে রূপান্তরিত করা যেত। আলোকে এভাবে ডিজিটালভাবে ধারন করার এ প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানের সকল শাখায় এর আবেদন ব্যাপক ভাবে বেড়ে যায়।

p_nobe

জার্মানির গার্চিংয়ে অবস্থিত ইউরোপীয়ান সাউথার্ন অবজার্ভেটরির ইন্স্ট্রুমেন্টেশান শাখার প্রধান মার্ক ক্যাস্যালির মতে, CCD ক্যামেরার আবিষ্কার অপটিক্যাল জোতির্বিজ্ঞানে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসে। CCD ক্যামেরার আগে জোতির্বিজ্ঞানীরা ফটোগ্রাফিক প্লেট ব্যবহার করত, যার সংবেদনশীলতা ছিল খুবই অল্প এবং এতে সংক্ষিতভাবে তথ্য পাওয়ার কোন উপায় ছিল না। CCD ক্যামেরা ব্যবহার করে এখন বিজ্ঞানীরা খুবই মৃদু আলোবিশিষ্ট্য গ্যালাক্সি আবিষ্কার নয় এমনকি দূরবর্তী নক্ষত্রগুলো চারপাশে ঘুর্নায়মান গ্রহের কারনে সৃষ্ট আলোর হ্রাস বৃদ্ধিও বুঝা সম্ভব হচ্ছে।

nobel_4

হাবল টেলিস্কোপের সমন্বয় কারী মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে অবস্থিত দা স্পেস টেলিস্কোপ সাইন্স ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টর ম্যাট মাউন্টেনের মতে CCD ই স্পেস বেইজড জোতির্বিজ্ঞানকে সম্ভব করেছে। হাবলের মত টেলিস্কোপ এ প্রযুক্তি ছাড় সম্ভব ছিল না।এখন বিশাল ইলেক্ট্রোনিক ডিটেক্টরকেই এখন আকাশে স্থাপন করা যায় যা আকাশের সবচেয়ে মৃদু বস্তুগুলোকেও ছবি তুলে যা খালি চোখ মানুষের পক্ষে অসম্ভবের চেয়ে বড় কিছু।

ist2_9182804-fiber-optic-world

চার্লস কাও এর দ্বারা উন্নিত ফাইবার অপটিকও বিজ্ঞানের উপর সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল। কাও যখন ফাইবার অফটিক নিয়ে কাজ করা শুরু করেছিল তখন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে তথ্য প্রেরন ছিল অনেক দূরের কল্পনা। তখন ফাইবার গুলো মাত্র কয়েক মিটার পর্যন্ত আলো বহন বহন করতে পারত এর মধ্যেই মলিন হয়ে পড়ত। কাও এবং তার কলিগ UK এর হার্লোয়ে অবস্থিত স্টেন্ডার্ড টেলিকমিউনিকেশন লেবেরেটরিজে গবেষনা করে বের করেন যে, প্রকৃতপক্ষে ফাইবার ক্যাবলে বিদ্যমান আয়রত আয়নের কারনেই এত অল্প দূরত্বে আলোর এত ক্ষয় হয়। কাও ফিউজড্ সিলিকা নামক একধরনের বিকল্প উপাদান নির্ণয় করেন। যা অনেক অনেক দূরত্ব পর্যন্ত কোন তাৎপর্যপূর্ণ ক্ষতি ছাড়াই আলো বহন করে নিয়ে যেতে পারে। তাদের সে কাজের ফলস্রুতিতেই আজকে সারাবিশ্বে বিলিয়ন কিলোমিটারেরও বেশি ফাইবার অপটিক মানুষকে প্রতিনিয়ত তথ্য যোগানদিতে বিরামহীন কাজ করে চলেছে।
সুইটজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত ইউরোপীয়ান পার্টিকল পদার্থবিজ্ঞানের কেন্দ্র CERN এ Large Hadron Collider(LHC) এর গবেষনায় অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখছে এই ফাইবার অপটিকস। LHC এর সর্ববৃহৎ ডিটেক্টর প্রতি সেকেন্ডে কয়েক মিলিয়ন গিগাবাইটের অবিশ্লেষিত তথ্য তৈরী করে। এ তথ্য তখন ফাইবার অপটিকস ৩৩টি দেশের হাজার হাজার বিজ্ঞনীদের কাছে আল্ট্র-ফাস্ট কম্পিউটার গ্রীডের মাধ্যমে পৌছে দেয়া হয়। LHC এর গ্রীড প্রজেক্ট লিডারের মতে LHC এর সমস্ত অবকাঠামো ফাইবার অপটিকসকে ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। ফাইবার অপটিক ছাড়া LHC এর এ বিশাল তথ্য প্রবাহ ধারন করা সম্ভব হত না।
আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। ভাল লাগলে মন্তব্য করে জানাবেন।

কি নিয়ে টিউন করবো, ভালো কোন আইডিয়া মাথায় আসছেনা। আপনারা কি দয়া করে কিছু আইডিয়া দিবেন ? কোন কোন বিষয় নিয়ে আমার টিউন করা উচিত।
তথ্যসূত্র: নেচার।

Programmer at Business Innovation & Incubation Center, Banani. Worked @ Harry & Michael IT Center as a Web Developer. Worked @ Kazi IT Center as a Web Developer, Graphic Designer, Virtual Assistant. Worked @ IQRA MODEL SCHOOL & COLLEGE as a full time teacher & typist. Student at American International University-Banglasdesh. [3rd year] Computer Science & Software Engineering Dept.

টিউনার সৌশল মিডিয়া
Ads by Techtunes - tAds
টিউমেন্টস টিউমেন্ট গুলো

আমাদের দেশের বিঞ্জানীরা কখন নোবেল পুরস্কার পাবে সেটাই প্রতীক্ষা।

জীবনী বিভাগটা মোটামোটি খালি আছে। ওই দিকে ট্রাই করলে কেমন হয়?

আমি আগেও দেখেছি ভালো বিষয় নিয়ে টিউন করলে কেউ পড়ে না। কিছুক্ষন মনযোগ দিয়ে ভাল কিছু পড়ার ধৈয্য খুব কম টিউনারেরই আছে। আপনাদেরকে অনেক ধন্যবাদ।
@samehood ভাই জীবনী নিয়ে আমি অনেক দিন থেকেই ভাবছি। কিন্তু দেখছেন ২৩ ঘণ্টায় এ টিউনটি পড়েছেন মাত্র ৬৯ জন। আমার খুব খারাপ লাগছে নোবেলের মত এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেও আমরা মূল্যায়ন করতে পারছি না। তাহলে আমাদের মত গুরুত্বহীন মানুষদেরকে বাহিরের বিশ্বের মানুষরা কেন মূল্যয়ন করবে।
@বেকুব – ভাই নামটাকি চ্যাঞ্জ করা যায় না। যদিও নামটা আপনার কিন্তু এত সুন্দর বিষয়ে কষ্ট করে টিউন করার পরও ভালো সাড়া না পেয়ে এখন নিজেকেই বেকুব বেকুব লাগছে। বাঙালি ভালোর দাম দিতে যানে না!!

যদিও নামটা আপনার কিন্তু এত সুন্দর বিষয়ে কষ্ট করে টিউন করার পরও ভালো সাড়া না পেয়ে এখন নিজেকেই বেকুব বেকুব লাগছে।
———————-
একটা মেয়ে (আসলে মেয়ে কিনা জানি না) শুধু হায় বলেছে, তাতে কমেন্ট পরেছে ১২৯ টা। এরকম কমেন্ট পাওয়ার কি দরকার?
লেখাটা নিজের আত্ন তৃপ্তির জন্য মনে করে ভাল কিছু লিখুন। আমি সবসময় বলি- ভাল একটি লোক আমাকে ভাল বললেই আমার জন্য যথেষ্ঠ। খারাপ ১০ জন ভালো বললেই যে আমি ভাল-তা না।

আপনাকে ধন্যবাদ,সুন্দর লেখার জন্য।

    টিউটো ভাই আপনার কথাই সঠিক। একজন ভালো লোকের কমেন্ট দশজন খারাপ লোকের কমেন্টের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।…. সত্যটি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য অসংখ্যা ধন্যবাদ।

অসাধারণ একটি টিউনের জন্যে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ………. টিউনটা আমার অগোচরে প্রথম পাতা থেকে চলে যাওয়ায় তখন পড়া হয়নি।

আগে না পড়তে পারায় দুঃখিত!

    টিনটিন ভাই আপনি আমার টিউন পড়েছেন এতেই আমি সন্তুষ্ট। আপনাকে ধন্যবাদ।

এইরকম একটা লেখা কোথায় যেন পড়েছি…

এইরকম একটা লেখা কোথায় যেন পড়েছি…

You must be logged in to post a Tumment.